বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণে মহাকাশ বিজ্ঞান: চবিতে
দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের ঐতিহাসিক যাত্রা
মো: ইলিয়াছ মিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম। মহাকাশ ও সমুদ্র বিজ্ঞান গবেষণায় এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা প্রতিবেশী ভারতের মতো বিদেশি সংস্থাগুলোর ওপর দীর্ঘদিনের একচেটিয়া তথ্য-নির্ভরতা কাটিয়ে বঙ্গোপসাগরের সম্পূর্ণ ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের নিজেদের হাতে।
আজ ৯ জুন, ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ও সফল ট্রায়াল রান সম্পন্ন হলো দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন এবং ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’ (SODIC-CU)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমদ, উপ-উপাচার্য একাডেমিক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. ফু বিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক মহলে এটিকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণার একটি বিশেষ ‘স্পেস উইন্ডো’ বা মহাকাশ জানালা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই দূরদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ এখন থেকে মাত্র ১০ মিনিটে বঙ্গোপসাগরের রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) ডেটা ও উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করতে পারবে, যা দেশের (ব্লু ইকোনমি) এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও অর্থায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি’ (SIO)-এর যৌথ উদ্যোগে ও অর্থায়নে এই আন্তর্জাতিক কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিযোগী দেশকে পেছনে ফেলে ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে চীন সরকার এই অত্যাধুনিক গ্রাউন্ড স্টেশনের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নির্বাচন করে।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার কারিগরি অনুদান হিসেবে অ্যান্টেনাসহ প্রায় ৬০ কোটি টাকার আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিকস সরাসরি হস্তান্তর করেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জমি ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো বাবদ বাকি ২০ কোটি টাকা অবদান রেখেছে। চবির ৫৬৬তম সিন্ডিকেট সভায় এই কেন্দ্রটিকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থায়ী অনুমোদন দেওয়া হয় এবং এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে এর প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঘণ্টার অপেক্ষা এখন মাত্র ১০ মিনিটে পূর্বে বঙ্গোপসাগরে কোনো গভীর নিম্নচাপ বা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার গতিপ্রকৃতি এবং নিখুঁত স্যাটেলাইট ইমেজ পেতে বাংলাদেশকে বিদেশি মহাকাশ সংস্থাগুলোর তথ্যের জন্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালুর ফলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল।
ক্যাম্পাসের পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত দুটি বিশাল বৃত্তাকার রাডার অ্যান্টেনা সরাসরি মহাকাশে থাকা চীনের অত্যাধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট (যেমন: HY-1C/D এবং FY-4B) সহ মোট ১১টি আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত হয়েছে। মহাকাশের এই নেটওয়ার্ক থেকে কাঁচা ডেটা (Raw Data) সরাসরি ডাউনলিংক করে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন উপকূল এবং দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (EEZ) একদম তাজা হাই-রেজোলিউশন ছবি প্রস্তুত করা সম্ভব। এছাড়াও কেন্দ্রটিতে স্থাপন করা হয়েছে ৪২০ টেরাবাইট (TB) তথ্য ধারণক্ষমতা সম্পন্ন দেশের সর্ববৃহৎ সামুদ্রিক ডিজিটাল আর্কাইভ ও আধুনিক সার্ভার রুম।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রটি শুধু দুর্যোগের পূর্বাভাসই দেবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের অবদান রাখবে। দক্ষিণ এশিয়ার ডেটা হাব প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, এই গ্রাউন্ড স্টেশনটিকে ঘিরে একটি দূরদর্শী ‘SGSMRS ২০৩৫ মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বৃহত্তম ‘মেরিন ডাটা হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মৎস্য, শিপিং এবং বাণিজ্যিক সেক্টরের কাছে ডেটা সাবস্ক্রিপশন সেবার মাধ্যমে এই কেন্দ্রটিকে একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হবে।
সমুদ্রের তথ্যের ব্যাপারে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে এই গ্রাউন্ড স্টেশনটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। মহাকাশ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন সমুদ্র জয়ের এক নতুন দিগন্তে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণে মহাকাশ বিজ্ঞান: চবিতে
দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের ঐতিহাসিক যাত্রা
মো: ইলিয়াছ মিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম। মহাকাশ ও সমুদ্র বিজ্ঞান গবেষণায় এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা প্রতিবেশী ভারতের মতো বিদেশি সংস্থাগুলোর ওপর দীর্ঘদিনের একচেটিয়া তথ্য-নির্ভরতা কাটিয়ে বঙ্গোপসাগরের সম্পূর্ণ ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের নিজেদের হাতে।
আজ ৯ জুন, ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ও সফল ট্রায়াল রান সম্পন্ন হলো দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন এবং ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’ (SODIC-CU)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমদ, উপ-উপাচার্য একাডেমিক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. ফু বিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক মহলে এটিকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণার একটি বিশেষ ‘স্পেস উইন্ডো’ বা মহাকাশ জানালা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই দূরদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ এখন থেকে মাত্র ১০ মিনিটে বঙ্গোপসাগরের রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) ডেটা ও উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করতে পারবে, যা দেশের (ব্লু ইকোনমি) এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও অর্থায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি’ (SIO)-এর যৌথ উদ্যোগে ও অর্থায়নে এই আন্তর্জাতিক কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিযোগী দেশকে পেছনে ফেলে ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে চীন সরকার এই অত্যাধুনিক গ্রাউন্ড স্টেশনের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নির্বাচন করে।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার কারিগরি অনুদান হিসেবে অ্যান্টেনাসহ প্রায় ৬০ কোটি টাকার আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিকস সরাসরি হস্তান্তর করেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জমি ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো বাবদ বাকি ২০ কোটি টাকা অবদান রেখেছে। চবির ৫৬৬তম সিন্ডিকেট সভায় এই কেন্দ্রটিকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থায়ী অনুমোদন দেওয়া হয় এবং এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে এর প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঘণ্টার অপেক্ষা এখন মাত্র ১০ মিনিটে পূর্বে বঙ্গোপসাগরে কোনো গভীর নিম্নচাপ বা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার গতিপ্রকৃতি এবং নিখুঁত স্যাটেলাইট ইমেজ পেতে বাংলাদেশকে বিদেশি মহাকাশ সংস্থাগুলোর তথ্যের জন্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালুর ফলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল।
ক্যাম্পাসের পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত দুটি বিশাল বৃত্তাকার রাডার অ্যান্টেনা সরাসরি মহাকাশে থাকা চীনের অত্যাধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট (যেমন: HY-1C/D এবং FY-4B) সহ মোট ১১টি আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত হয়েছে। মহাকাশের এই নেটওয়ার্ক থেকে কাঁচা ডেটা (Raw Data) সরাসরি ডাউনলিংক করে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন উপকূল এবং দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (EEZ) একদম তাজা হাই-রেজোলিউশন ছবি প্রস্তুত করা সম্ভব। এছাড়াও কেন্দ্রটিতে স্থাপন করা হয়েছে ৪২০ টেরাবাইট (TB) তথ্য ধারণক্ষমতা সম্পন্ন দেশের সর্ববৃহৎ সামুদ্রিক ডিজিটাল আর্কাইভ ও আধুনিক সার্ভার রুম।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রটি শুধু দুর্যোগের পূর্বাভাসই দেবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের অবদান রাখবে। দক্ষিণ এশিয়ার ডেটা হাব প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, এই গ্রাউন্ড স্টেশনটিকে ঘিরে একটি দূরদর্শী ‘SGSMRS ২০৩৫ মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বৃহত্তম ‘মেরিন ডাটা হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মৎস্য, শিপিং এবং বাণিজ্যিক সেক্টরের কাছে ডেটা সাবস্ক্রিপশন সেবার মাধ্যমে এই কেন্দ্রটিকে একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হবে।
সমুদ্রের তথ্যের ব্যাপারে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে এই গ্রাউন্ড স্টেশনটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। মহাকাশ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন সমুদ্র জয়ের এক নতুন দিগন্তে।

আপনার মতামত লিখুন