ওসমানীনগর প্রতিনিধি ||
ওসমানীনগরে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উন্নয়ন সভা ও দাবি পরিশোধপুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মাঠকর্মীদের ক্ষোভ, ‘পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নেই’ অভিযোগওসমানীনগর প্রতিনিধি:- গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও উন্নত সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। প্রতিষ্ঠানের সাফল্য, গ্রাহকসেবা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে সিলেটের ওসমানীনগরে উন্নয়ন সভা, পুরস্কার বিতরণ ও বীমা দাবি পরিশোধ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের একাংশ তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া এবং সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।সোমবার দুপুরে উপজেলার তাজপুরস্থ সাংগঠনিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এরিয়া প্রধান মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মনিটরিং ইনচার্জ এ এস এম সাজ্জাদুর রহমান, গোয়ালাবাজার জোন প্রধান আব্দুল মোমিন, শেরপুর সহকারী জোন প্রধান জাবিরুন নেছা ও তাজপুর সহকারী জোন প্রধান সুমা বেগম।তাজপুর সাংগঠনিক অফিস ইনচার্জ শামীমা বেগমের সভাপতিত্বে এবং শেরপুর সাংগঠনিক অফিসের এজিএম আলা মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শামীমা বেগম, রিমা বেগম, নাজমা, শাহেনা, মিনা বেগম, সাজনা বেগম, আনহার মিয়া, রেহানা বেগম, শাহানা বেগম ও জাফর কুমার দেব।বক্তারা বলেন, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জীবনবীমার গুরুত্ব অপরিসীম। বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ যথাসময়ে পরিশোধের মাধ্যমে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকসেবা আরও সহজ ও আধুনিক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে জীবনবীমার সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারী আশরাফুল ইসলাম।কর্মক্ষেত্রে সাফল্য ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন গ্রাহক ও কর্মকর্তার মধ্যে পুরস্কার ও উপহার বিতরণ করা হয়। এজিএম শামীমা বেগম ও এফএ মুতিউর রহমানকে ফ্রিজ, তানিয়া বেগমকে টেলিভিশন এবং রিয়া আক্তার রানাকে ফ্যান উপহার দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বীমা দাবি পরিশোধের অংশ হিসেবে মৃত্যু দাবির চেকও হস্তান্তর করা হয়। মৃত্যুদাবির অর্থ গ্রহণ করেন নমিনি তানিয়া বেগমের পিতা সুনা মিয়া।মাঠকর্মীদের ক্ষোভ অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মী তাদের বিভিন্ন অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, মাঠকর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দিন-রাত পরিশ্রম করে বীমা সংগ্রহ ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সভায় বসিয়ে রাখার পাশাপাশি তাদের জন্য যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, তার মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সভায় অংশ নিতে হয়। দুপুরের খাবার হিসেবে তুলনামূলক কম মূল্যের ছানা পোলাও দেওয়া হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য খাবারের মান ছিল ভিন্ন এমন অভিযোগ করেন তারা।মাঠকর্মীদের কেউ কেউ বলেন, ‘আমরা মাঠে দিন-রাত কাজ করে বীমা সংগ্রহ করি। আমাদের শ্রমের ওপর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা দাঁড়িয়ে থাকলেও কর্মীদের মূল্যায়ন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।’তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি, সম্মানজনক সুযোগ-সুবিধা, সভা পরিচালনায় মানবিক পরিবেশ এবং খাবারের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্মীদের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।তবে মাঠকর্মীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।৪২ বছরের পথচলায় গ্রাহকসেবা ও দাবি পরিশোধের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সন্তুষ্টি ও যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।