আবুল হোসেন সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধ সরিষিবাড়ীতে প্রথম স্ত্রীর লোকজন অপহরণ করে জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:-জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে প্রথম স্ত্রীর ভাইয়ের নেতৃত্বে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতন ও তাঁর নামে থাকা জমিজমা লিখে নেওয়ার চেষ্টা এবং বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের ৪ ঘন্টা পর টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানা ও জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তার স্ত্রী ও সমন্ধি সহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আরোও ৫/৬ জন কে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম মোল্লা সরিষাবাড়ী উপজেলার হাটবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ১২ জুলাই একই গ্রামের পাশের বাড়ির এক অসহায় বিধবা নারীয ও দুটি সন্তান সহ কাবিনমূলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। প্রথম স্ত্রী তাঁকে নিজের বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়াসহ ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও দাবি করেন শফিকুল।অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে শফিকুল নিজ বাড়িতে গেলে প্রথম স্ত্রীসহ কয়েকজন তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক প্রথম স্ত্রীর বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বালাসুতি গ্রামে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।শফিকুলের অভিযোগ, পরে তাঁর বাড়িতে থাকা জমির দলিল-দস্তাবেজ, ব্যাংকের কাগজপত্র, নগদ দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা জমিজমা প্রথম স্ত্রী ও ছেলের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী ও ধনবাড়ী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। এ অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ ধনবাড়ীর বালাসুতি গ্রাম থেকে শফিকুলকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তার প্রথম স্ত্রী সানজিদা আক্তার শিমু, সম্বন্ধি সাইফুল ইসলাম সহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শুক্রবার রাতে সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বোন ও ভাগিনাকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে পলাতক রয়েছেন । শুক্রবার সকালে হঠাৎ বাড়ীতে এসে ঘরের দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় বোন শিমু কে মারধর করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে আমরা শফিকুল ইসলাম এর বাড়ীতে গিয়ে তার কাছ থেকে কিছু কথা শোনার জন্য আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। তাকে মারধর করা হয়নি বলে তার বিরুদ্ধে কানে তো অভিযোগ অস্বীকার করেন । এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, শফিকুল ইসলামের দেয়া একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।