পীরগাছা(রংপুর) প্রতিনিধি ||
সংবাদ প্রকাশের পর পীরগাছা সোনালী ব্যাংকের সেই ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি পীরগাছা(রংপুর) প্রতিনিধি - জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর রংপুরের পীরগাছা সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানি, দুর্ব্যবহার, দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ, ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ কমিটি গঠন করা হয়।রোববার সকালে এজিএম কামাল পাশাকে প্রধান করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন পিও আতিকুল ইসলাম।এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ‘পীরগাছায় সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।রোববার ৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটির সদস্যরা দিনব্যাপী সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখায় সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় ব্যাংকে সেবা নিতে আসা বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেন তারা। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কেও গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য নেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।তদন্তের সময় গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবার মান, শাখা ব্যবস্থাপকের আচরণ, গ্রাহক হয়রানি, চেকবই প্রদান, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।এ সময় কয়েকজন গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন।গ্রাহক রুবেল মিয়া তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেসব অনিয়মের কথা উঠে এসেছে, তার চেয়েও বেশি অনিয়মের সঙ্গে শাখা ব্যবস্থাপক জড়িত। এ ছাড়াও ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে কাজ করার অভিযোগও কয়েকজন ভুক্তভোগী তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন।তদন্তের সময় শাখা ব্যবস্থাপকের কক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার নিয়েও অভিযোগ ওঠে। পীরগাছা সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগএকাধিক গ্রাহক তদন্ত কমিটিকে জানান, ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সেবা বা কোনো সমস্যা নিয়ে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও সাধারণ গ্রাহকদের সহজে তার কক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না। তবে ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়মিত ওই কক্ষে যাতায়াত ও অবস্থানের অভিযোগ করেছেন তারা।কয়েকজন গ্রাহক ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ মহল তৈরি, তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা এবং সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় তাদের বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগও তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন।ঋণ বিতরণ ও চেকবই প্রদানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা তদন্ত কমিটির কাছে জানিয়েছেন কয়েকজন গ্রাহক। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কয়েকজন সাংবাদিক ও ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা চেষ্টা করছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান এজিএম কামাল পাশা বলেন, ‘জিএম স্যারের নির্দেশে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দাখিল করব।’তিনি জানান, তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।