নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আইডিয়াল কেজি স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ব্যতিক্রমী উদ্যোগনিজস্ব প্রতিবেদক:- শিক্ষার্থীদের নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ায় প্রশংসিত প্রতিষ্ঠান পরিচালক ১৯৯৭ সালে মাত্র ৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা আইডিয়াল কেজি স্কুল দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির স্কুল কোড ৪৬৬৯৯৫।প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়টি প্রচলিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।বিদ্যালয়ের মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজের প্রতি উৎসাহিত করা এবং নামাজের প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও আদব-কায়দা শেখানো হয়। একই সঙ্গে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিক্ষার প্রতিও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক রাখার উদ্যোগও রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের সমাবেশেও ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য কোরআন তিলাওয়াত এবং হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য গীতা পাঠের মাধ্যমে নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করার চেষ্টা করা হয়।শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হলে একজন শিক্ষার্থী দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। মাগুরা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগকে ব্যতিক্রমী বলেও অনেকে অভিহিত করছেন।প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, “শুধু বই-পুস্তকের শিক্ষা নয়, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান ও সহনশীলতার শিক্ষাও শিশুদের দিতে হবে।”তিনি আরও মনে করেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের চর্চার সুযোগ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা—আইডিয়াল কেজি স্কুলের এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।