আবুজর গিফারী, , পাবনা প্রতিনিধি: ||
পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা ইউনিয়নে অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও পানির গুণগত মান অবনতির যৌথ প্রভাবে পুকুরে দেখা দিয়েছে চরম অক্সিজেন সংকট। দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় চাষকৃত লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে উঠে মারা যাচ্ছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে অন্তত ১৫ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় এক মৎস্য খামারি।বেড়া থানাধীন কৈটোলা ইউনিয়নের আওয়াল বাঁধ মোড় সংলগ্ন প্রায় ১৯ বিঘা আয়তনের একটি বিশালাকার মৎস্য খামারে ঘটনাটি ঘটেছে। পুকুরটির স্বত্বাধিকারী পাবনার কৃতি সন্তান ও দুইবারের প্রাক্তন সংসদ সদস্য মরহুম আওয়াল মির্জার সন্তান মির্জা তারিক হিকমত দিপু।খামার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত ঘনত্বের কারণে পুকুরটিতে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য নিয়মিত এ্যারেটর (Aerator) মেশিন চালানো হতো। তবে ঘটনার দিন টানা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অ্যারোটরগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। পাশাপাশি দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে প্রাকৃতিক সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া থমকে যায়।নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব, সূর্যালোকের অপর্যাপ্ততা এবং পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ত্রিমুখী প্রভাবে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। ফলে দমবন্ধ হয়ে মাছগুলো একের পর এক পানির ওপরে ভেসে উঠতে ও মারা যেতে শুরু করে।বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু করে সারারাত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত একের পর এক হাজার হাজার মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিপুল সংখ্যক মানুষ পুকুরপাড়ে জড়ো হন এবং ভেসে থাকা মাছ তুলে নিয়ে যেতে থাকেন। মাছের মৃত্যু ও লোকজনের ভিড়—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পাহারাদারদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।ক্ষতিগ্রস্ত খামারি মির্জা তারিক হিকমত দিপু আক্ষেপ করে জানান, "আমার এই ১৯ বিঘার পুকুর থেকে প্রতি বছর গড়ে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মাছ উৎপাদিত হয়। এবারও লক্ষ্যমাত্রা তেমনই ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ ও আবহাওয়া সংক্রান্ত এই দুর্যোগে আমার খামারটি শেষ হয়ে গেল। ঠিক কত টাকার মাছ মারা গেছে তা এখনো পুরোপুরি হিসাব করা না গেলেও প্রাথমিক ধারণামতে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।"