পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমামকে ফাঁসাতে গিয়ে গ্রেপ্তার মিথ্যা মামলার বাদী জাহানারা ||
পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমামকে ফাঁসাতে গিয়ে গ্রেপ্তার মিথ্যা মামলার বাদী জাহানারাপটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টার মামলা করে উল্টো নিজেই ফেঁসে গেছেন বাদিনী জাহানারা বেগম। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে জারি করা ওয়ারেন্টে তাকে আজ গ্রেপ্তার করে। মামলার বিবরণ ও পুলিশ জানায়, শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম তার দুই নাতিকে দিয়ে পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি ও অপকর্ম করিয়ে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিগত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তার দুই নাতি মডেল মসজিদে চুরি করতে ঢুকলে মসজিদের খাদেম সাব্বির ও আলহাজ্ব শাহ আলম (৭০) নামে এক মুসল্লি তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে এশার নামাজের পর বিষয়টি মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোঃ তানভিরুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)কে অবহিত করেন।খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এবং ইমাম, মোয়াজ্জেন ও খাদেমদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ সাজান জাহানারা বেগম। ঘটনার ১৫ দিন পর হাসপাতালের কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন ওই নারী। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই (PBI)-কে নির্দেশ দিলে পিবিআই সিসিটিভি ফুটেজ, নিরপেক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি ও হাসপাতালের চিকিৎসকের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ঘটনার কোনো সত্যতা পায়নি। তদন্ত শেষে পিবিআই গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে, যেখানে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ) মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সাথে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা ও নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদিনী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বিবাদীপক্ষ জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। উক্ত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আজ ২২ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।