প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পীরগাছায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে চরম ক্ষোভ
এম এ হোসেন পাটোয়ারী রংপুর পীরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি ||
পীরগাছায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে চরম ক্ষোভরংপুরের পীরগাছায় সারের ডিলারশিপ নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাব পীরগাছা মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, “উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিমের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এখানে উপজেলা বিএনপির কোনো সুপারিশ বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং আমরা কাউকেই সুপারিশ করিনি।”তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান নিজে কান্দি ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিতে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সুপারিশ চেয়েছিলেন। কিন্তু নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় দলীয়ভাবে তা প্রত্যাখান করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই তিনি মনগড়া অডিও ও তথ্য ছড়িয়ে নেতাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অডিও রেকর্ডের তথাকথিত ‘রহিম’ নামের ব্যক্তির সাথে তার কখনো কোনো কথা বা সাক্ষাৎ হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিম বলেন, “পীরগাছা উপজেলা বিএনপি একটি সুসংগঠিত দল। একটি সুবিধাবাদী চক্র অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে দলের ত্যাগী নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করছে। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না হওয়ায় এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য আমরা সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”সংবাদ সম্মেলন থেকে সিনিয়র নেতাদের নাম ভাঙিয়ে অনিয়ম ও অপপ্রচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে দ্রত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির অধীনস্থ বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সম্প্রতি কান্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে সারের ডিলারশিপ প্রদান নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে পোস্ট দেন। এর পরপরই অন্নদানগর ইউনিয়নের দুই সারের ব্যবসায়ীর মধ্যে ডিলারশিপ কেন্দ্রিক অর্থ লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ