সিরাজুল কবির বুলবুল কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ||
উখিয়া–টেকনাফের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সমস্যা থেকে সম্ভাবনার পথে!সিরাজুল কবির বুলবুল কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:- উখিয়া–টেকনাফে দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট এখন শুধু পরিবেশের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।প্রায় দেড় মিলিয়ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় বিপুল জনসংখ্যার কারণে এ অঞ্চলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা, Recycling ও পুনঃব্যবহারের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়ে আসছে।সম্প্রতি উখিয়া, টেকনাফ থেকে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী মহোদয়ের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় প্রায় ১৭ কোটি টাকার একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও Recycling প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উখিয়া–টেকনাফের দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।এ ব্যপারে প্রতিবেদনকারীর সাথে একান্ত স্বাক্ষাতকারে CHRDF, UKHIYA,COX'SBAZAR এর প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর, মাহমুদুল হক মাহমুদ জানান,এই উদ্যোগের সঙ্গে শুরু থেকে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত থাকা সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও পরিবেশকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।CHRDF দীর্ঘদিন ধরে The Earth Society এর সহযোগিতায় পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন Stakeholder-কে সম্পৃক্ত করে SDG- 13 এর অংশ হিসেবে Advocacy কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।আমাদের বিশ্বাস, বর্জ্য শুধু ফেলার বস্তু নয়,.সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি একটি সম্ভাবনাময় সম্পদে পরিণত হতে পারে।বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বর্জ্য থেকে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ উদ্ধার করা যেতে পারে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা যেতে পারে; জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে কম্পোস্ট ও জৈব সার তৈরি করা যেতে পারে; নতুন কর্মসংস্থান ও স্থানীয় ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে; পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো যেতে পারে।বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শুধু “বর্জ্য অপসারণ” হিসেবে না দেখে Recycling Industry ও Circular Economy-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরো জানান,এ জন্য সরকারের নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক Waste Management System চালু রয়েছে। সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা মডেল বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োগের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।উন্নত দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল গুলোর কয়েকটি উদাহরণ হল: সিঙ্গাপুর: Recycling + Waste-to-Energy → বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ।জার্মানি: Circular Economy → বর্জ্য আলাদা করে Recycling ও পুনঃব্যবহার। সুইডেন: Non-recyclable waste → Energy Recovery → বিদ্যুৎ ও তাপ।দক্ষিণ কোরিয়া: Food/Organic Waste → Biogas + Compost → জ্বালানি ও কৃষি। তিনি বলেনউখিয়া–টেকনাফে যদি একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই Recycling System গড়ে তোলা যায়, তাহলে এটি শুধু একটি এলাকার বর্জ্য সমস্যা সমাধান করবে না বরং বাংলাদেশের অন্যান্য শহর ও অঞ্চলের জন্যও একটি কার্যকর মডেল হতে পারে।বর্জ্য সমস্যা নয়, বরং সম্পদ হিসেবে ভাবতে হবে। Recycling নয় শুধু, Circular Economy গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ রক্ষা নয় শুধু, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে হবে।