মোহাম্মদ আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ: লাখো জনতার ঢল।মোহাম্মদ আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক। মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নদী কালিগঙ্গা। সময়ের পরিক্রমায় নদীর যৌবন আগের মতো না থাকলেও, নদী তীরের মানুষের শখ, আনন্দ আর সম্প্রীতিতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি পড়েনি।৩ রা অক্টোবর শনিবার বেলা ১ টায় মানিকগঞ্জের কালিগঙ্গার বুকে অনুষ্ঠিত হলো এক জাঁকজমকপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।মানিকগঞ্জের পৌরসভাধীন কালিগঙ্গা নদীর বোয়ালি ঘাট থেকে বেউথা, আন্ধারমানিক, বান্দুটিয়া, পৌলি, জয়নগর হয়ে তরা-মির্জাপুর মাঝিপাড়া ত্রিমোহনায় গিয়ে সমাপনী বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নদীর দুই কূলে লাখো জনতার উৎসবমুখর উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে অপসংস্কৃতি দিয়ে দেশীয় প্রাণের সংস্কৃতিকে কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। আজ সকাল থেকেই নদী সংলগ্ন শহরের প্রতিটি রাস্তায় যেন মানুষের ঢল নেমেছিল।জেলা বিএনপির সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আগত মোট ২২টি ক্ষিপ্রগতির নৌকা চারটি ভিন্ন বিভাগে অংশ নেয়। দুপুরে বেওথা এলাকায় বর্ণিল এই ক্রীড়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।রেসের সময় বাদ্যযন্ত্রের তালের সাথে জারি-সারির সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কালিগঙ্গার পাড়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে চার বিভাগের বিজয়ী দলগুলোর হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৪টি আকর্ষণীয় মোটরসাইকেল এবং রানারআপ দলগুলোর জন্য রেফ্রিজারেটর তুলে দেওয়া হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, "দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই লোকজ বিনোদন পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রতি বছর মানিকগঞ্জবাসীর জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। নৌকা বাইচ কেবল খেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণস্পন্দন যা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।"বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, "কালিগঙ্গার দুই পাড়ে অসাম্প্রদায়িকতার এক চমৎকার মিলনমেলা বসেছে। যুবসমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে এমন আয়োজনের বিকল্প নেই।"নৌকা বাইচ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ. ত. ম. জহীর আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ পারভেজ, সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহীনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একটি ভিন্নধর্মী মাত্রা যোগ করে সেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন 'গ্রীণ মাইন্ড ইয়ুথ ফোরাম'। পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতায় তরা ব্রিজের নিচে তরুণরা নৌকায় চড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে না ফেলার জন্য দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করে এবং নাচ-গানের মাধ্যমে পুরো আয়োজনে এক নতুন আনন্দ যুক্ত করে।