মনিরুল ইসলাম , সম্পাদক ও প্রকাশক ||
সুনামগঞ্জে মরাচেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ৩৭ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা।ব্যুরো সিলেট। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীর পাড় কেটে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) দোয়ারাবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীসংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় নদীর পাড় থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন/ছাড়পত্র ছাড়াই বেআইনিভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ধারা ৬(খ), ১২ এবং ১৫(১) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে যাদের নাম রয়েছে। ১. জয়নাল আবেদীন মেম্বার (৫৫), পিতা- সিরাজ মিয়া, সাং- চাইরগাঁও, ১ নং ওয়ার্ড, থানা- দোয়ারাবাজার, জেলা- সুনামগঞ্জ ২. জিয়াউর রহমান বোখ (৩৫), পিতা চমক আলী, সাং- সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩. জহর মেম্বার (৫৫), পিতা আকবর আলী, সাং-হাবিদনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৪. আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান (৬০), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- ইসলামপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৫. মোহাম্মদ আলী (৩৫), পিতা মুকসেদ আলী, সাং- পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৬. খন মিয়া মেম্বার (৬০), পিতা- জাহির আলী, সাং- সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৭. রফিকুল ইসলাম (৫৫), পিতা-বদরুল আলম, সাং- নরসিংপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৮. ফখরুল ইসলাম (৪০) পিতা- মৃত সামছুল ইসলাম, সাং-নরসিংপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৯. নিজাম উদ্দিন নিধান (৫২),পিতা- ওসমান আলী, সাং-হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১০. ফরিদ মিয়া (৪৫), পিতা আহমাদ আলী, সাং-পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১১. শরীফ মিয়া (৩৫), পিতা আহমদ আলী, সাং-পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১২. মনসুর আলী (৪০), পিতা-মৃত নওয়াজ আলী, সাং-পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৩. সিদ্দিক মিয়া (৪৫) পিতা ইসমাইল আলী, সাং- পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৪. চেনু মিয়া (৪০) পিতা- মৃত রইস আলী, সাং-পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৫. জামশেদ মিয়া (৬২), পিতা- মৃত ফজলুর রহমান, সাং-হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৬. আলা উদ্দিন (৪০), পিতা- সিরাজ মিয়া, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৭. ওমর (৪০), পিতা- কুতুব আলী, সাং-পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৮. রফিক মিয়া (৩৮), পিতা- অজ্ঞাত, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৯. কালাম ডাক্তার (৪৮), পিতা- হাশেম আলী, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২০. আইনুদ্দিন (৪০), পিতা- সুলতান মিয়া, পূর্ব সোনাপুর, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ ২১. সাদ্দাম মিয়া (৩৫), পিতা- সুভ্রত মিয়া, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২২. সানির মিয়া (২৩), পিতা- আফজাল, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২৩. মনির মিয়া (২২), পিতা- আফজাল, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২৪. জালাল মিয়া (৫৫), পিতা- মত্তা মিয়া, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২৫. মাসুক মিয়া (২৮), পিতা- ফজলু মিয়া, সাং-হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২৬. সমুর মিয়া (৪০), পিতা- জহুর আলী, সাং- হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২৭. বাসির মিয়া (২৫), পিতা- রইস আলী, সাং- হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২৮. রমজান মিয়া (৩৫), পিতা- জহুর আলী, সাং-হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ২৯. আবুল কালাম (৪৫), পিতা-আব্দুল কাদের, সাং-হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩০. নুরু মিয়া (৪৪), পিতা মৃত আব্বাস আলী, সাং-চারগাঁও, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩১. বকুল মিয়া (৩৫), পিতা-কুদ্দুস মিয়া, সাং-নরসিংপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩২. মো: আলী (৪০), পিতা- হাইম উল্লা, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩৩. শফিকুল ইসলাম (৫৫), পিতা- মৃত আবু সঈদ, সাং-সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩৪. দ্বীন ইসলাম (৪৫), পিতা- অজ্ঞাত, সাং-রতমতপুর, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩৫. বুলবুল আহমদ (৪৮), পিতা-মৃত ফরিদ উদ্দিন, সাং-নোয়াগাঁও গণেশপুর, ইসলামপুর, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩৬. লিটন মিয়া (৪০), পিতা রজ্জব আলী (মেম্বার) সাং-ইসলামপুর ইউনিয়ন, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ ৩৭. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৩), পিতা-জিয়াদ আলী, থানা-কোম্পানীগঞ্জ, জেলা-সিলেট। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাত ৮টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন ও লোড-আনলোড করা হয়েছে। উত্তোলন করা বালুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, ওই সময়ে আসামিরা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করায় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন।