মনিরুল ইসলাম , সম্পাদক ও প্রকাশক ||
মনিরামপুরে মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও আ’লীগ নেতার ছেলেকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মনিরামপুরে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতির ছেলের নামে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এমন অভিযোগ তুলে বুধবার বিএনপির দুই নেতা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগে তারা প্রকাশিত সার ডিলার তালিকা পুনরায় নিরপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে বাতিলের দাবী জানিয়েছেন। এদিকে সারের ডিলার তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে বিসিআইসি সারের ডিলার মেসার্স জান্নাতুল ফেরদাউস এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর রওশনারা খাতুন চলতি বছর ফ্যামিলি কার্ড শুমারীর ইউনিয়ন সুপারভাইজার হিসেবে সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। এছাড়াও তার স্বামী আফজাল হোসেন পাড়ালা গ্রামের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও প্রতারক। সম্প্রতি ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ ৪৩ হাজার টাকা ও ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।মনিরামপুর থানায় যার মাদকদ্রব্য আইনে মামলা নম্বর-৪,(৩) ২৬। সে জামালপুর জেলার সদর থানার সিআর-১৬(১)২৩ প্রতারণা মামলার ২বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামী। অপরদিকে, শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সাবেক মেম্বার ফজলুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে মেসার্স জামান ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর সালাহ উদ্দিন।সালাহ উদ্দিনের পিতা আব্দুল কাশেম নাগোরঘোপ-হাসাডাঙ্গা ২নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে সরকারের সুবিধা দেওয়ার ঘটনা তারাসহ তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা মেনে নিতে পারছে না। এছাড়াও রোহিতা ও ঝাঁপা ইউনিয়নের সাবের ডিলার নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বির্তকের ঝড় থামছে না। অভিযোগে দুই বিএনপির নেতা প্রকাশিত সারের ডিলার তালিকা পুনরায় নিরপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তা বাতিলের দাবী করেছেন।এ বিষয়ে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা কামারুল ইসলাম ও চিনাটোলা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান দলের প্রতি তীব্র ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দিনে যাদের দ্বারা মামলা হামলার শিকার হয়েছি আমরা, আর নেতারা এখন সেই সব প্রতিপক্ষকে অর্থ বাণিজ্যর মাধ্যমে দিচ্ছেন সুবিধা। এতে করে এমন দল করার আগ্রাহ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বলে দাবী করেছেন। সার ডিলার নিয়োগ পাওয়া রওশনারা খাতুন ও সালাহ উদ্দিনের দাবী, তাদের সার ডিলার নিয়োগ দেওয়াতে কোন অনিয়ম করা হয়নি। নিয়মনীতি মেনেই তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সম্রাট হোসেন বলেন, অভিযোগ গুলো তদন্ত করা হচ্ছে, এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, তার নিজের রোহিতা ইউনিয়নে স্বজনপ্রীতি করে একই পরিবারের ৩ জনের নাম তালিকায় পাঠানো হয়েছে। এসব দুনীর্তির বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।