প্রতিনিধি আল মামুন গাজী ||
১ম আন্তঃসার্ভিসেস সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপ প্রথম দিনেই সেনাদলের জয়জয়কার, ব্রোঞ্জ জিতলেন আনসারের আবদুল্লাহপ্রতিনিধি আল মামুন গাজী:- দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সাইক্লিং অঙ্গনে উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত। বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গত ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) উৎসবমুখর পরিবেশে পর্দা উঠেছে দুই দিনব্যাপী ‘১ম আন্তঃসার্ভিসেস সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এর।সার্ভিসেস দলগুলোর সাইক্লিস্টদের পেশাদারিত্ব ও নৈপুণ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে দেশের চার শীর্ষ সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বাংলাদেশ জেল পুলিশ।প্রতিযোগিতার পরিধি ও অংশগ্রহণআয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, এবারই প্রথম আন্তঃসার্ভিসেস পর্যায়ে এত বড় পরিসরে সাইক্লিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে মোট ৭টি ক্যাটাগরির অধীনে ১৪টি রোমাঞ্চকর ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষে মাঠে নেমেছেন ১০০ জন প্রতিশ্রুতিশীল অ্যাথলেট। এর মধ্যে ২৯ জন নারী এবং ৭১ জন পুরুষ অ্যাথলেট নিজ নিজ বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছেন।প্রতিযোগিতার প্রথম দিন সকালে আর্মি স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশীদ।উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি অ্যাথলেটদের ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বজায় রাখার পরামর্শ দেন এবং আগামী দিনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরার আহ্বান জানান।প্রথম দিনের সাফল্য ও সেনাদলের আধিপত্য প্রতিযোগিতার বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রথম ইভেন্ট ছিল ‘১০০০ মিটার টাইম ট্রায়াল (পুরুষ)’। রোমাঞ্চকর ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গতির ঝড় তুলে এই ইভেন্টে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্রুতগতির সাইক্লিস্ট ফয়সাল বিশ্বাস।একই ইভেন্টে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে রৌপ্যপদক অর্জন করেন সেনাবাহিনীর অপর অ্যাথলেট আবদুল্লাহ-আল নোমান। অন্যদিকে সেনাদলের দাপটের মাঝেও দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ঝুলিতে ব্রোঞ্জ পদক এনে দেন উদীয়মান অ্যাথলেট আবদুল্লাহ।দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ১৭ অক্টোবর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। দেশের ক্রীড়াপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, এ ধরনের বৃহৎ আয়োজনের মাধ্যমে আগামীতে জাতীয় দলের জন্য নতুন, দক্ষ ও সম্ভাবনাময় সাইক্লিস্ট খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।