অপূর্ব সরকার, , পটুয়াখালী প্রতিনিধি ||
পটুয়াখালীতে সম্প্রীতির বার্তা বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার --খলিল আহমেদেরঅপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:- ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। তিনি বলেছেন, ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পূজা উদ্যাপনে সরকার ও প্রশাসন সব ধর্মের মানুষের পাশে রয়েছে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টায় পটুয়াখালীর শ্রী শ্রী মদনমোহন জিঊর আখড়াবাড়ি মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খলিল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। সবার নিজ নিজ ধর্ম পালন এবং ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের অধিকার রয়েছে। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিভেদ বা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়। ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’ এই আদর্শ ধারণ করে সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।মসজিদে আজান হবে, মন্দিরে প্রার্থনা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উপাসনার মধ্য দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি আরো বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বরাদ্দের চেয়ে ১০০ কেজি বেশি। বরিশাল বিভাগে মোট ১ হাজার ৭০৮টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৪০টি পূজামণ্ডপে এই চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। পূজারীরা যেনো নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী আশরাফুল করিম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহসিন উদ্দীন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল কাইয়ূম। এ ছাড়া পৌর প্রশাসক, সরকারি কর্মকর্তা, মন্দির কমিটি ও পূজাম উদ্যাপন পরিষদসহ স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।