মোঃ আনোয়ার হোসেন রাজ , কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি ||
কচুয়ায় নবমুসলিম তরুণীকে তালাকে বাধ্য করার অভিযোগ: থানায় সমাধান, সংসার জোড়া লাগলোকচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: মোঃ আনোয়ার হোসেন রাজ ২২, অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের কচুয়ায় নবমুসলিম তরুণী রিয়া আক্তারকে নির্যাতন করে তালাক দিতে বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগের অবশেষে সমাধান হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ মাস আগে মনপুরা গ্রামের মনোরঞ্জন সরকারের মেয়ে রিয়া নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং একই গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে রাব্বি আহমেদকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন।রিয়ার অভিযোগ ছিল, জীবিকার টানে স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর শাশুড়ি আমেনা বেগম ও চাচা শ্বশুর হাফেজ আল আমিনের সাথে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। গত ১৬ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি বাড়িতে সালিশের মাধ্যমে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ২ লক্ষ টাকা কাবিনের মাধ্যমে তালাক করানো হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব আজিজুল ইসলামের নির্দেশে, ২২ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কচুয়া থানায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত অফিসার রাশেদুল হক ও এএসআই মোস্তাক হোসেনের সহযোগিতায় এ বৈঠক পরিচালিত হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির, মনপুরা গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মেয়ের জন্মদাতা বাবা মনোরঞ্জন সরকার ও উভয় পরিবার।১. ছেলে-মেয়ে উভয়ের বক্তব্য নেওয়া হয়, তারা দুজনেই জানান তারা সংসার করতে চান। ২. জোরপূর্বক ডিভোর্সের স্ট্যাম্প বাতিল করে নতুন করে উভয়পক্ষের স্বাক্ষরে সংসার করার সিদ্ধান্ত হয়। ৩. ওইদিন মেয়ের হাতে দেওয়া ২ লক্ষ টাকা দেনমোহরের টাকা হিসেবে গণ্য হবে, যা ছেলে পক্ষের ফেরতযোগ্য নয় বলে সমাজবাসী দাবি করেন।৪. মেয়েটির শাশুড়ি আমেনা বেগম বলেন, "আমি অনেক ভুল করেছি, সামনে আর এমন ভুল হবে না। আমাকে ক্ষমাদৃষ্টিতে দেখবেন। ভবিষ্যতে এমন কিছু দেখলে সমাজ ও আইন যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি মাথা পেতে নেব।"৫. ওসি আজিজুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত, অভিযোগ দিলে তথ্য প্রমাণসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে মেয়েটির সাথে অনৈতিক আচরণ করলে ক্ষমা গ্রহণযোগ্য হবে না।"এসময় রিয়ার বাবা মনোরঞ্জন সরকারকে হুমকির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "আমি নিরাপত্তায় আছি, গ্রামবাসী আমার পক্ষে আছে।" তিনি আপাতত কারো নাম উল্লেখ করেননি, তবে প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।একটি ভাইরাল ঘটনার সুন্দর সমাধান করায় কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলামকে সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন কচুয়ার সর্বস্তরের জনগণ ও মনপুরা গ্রামবাসী।