মোঃ আবুল হোসেন, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
সরিষাবাড়ীতে নকশাভুক্ত রাস্তা দখল , পুনরুদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের রায়দেরপাড়া আমতলা এলাকায় সরকারি নকশাভুক্ত ও জনসাধারণের চলাচলের একটি পুরোনো কাঁচারাস্তা কেটে পুকুরের অংশ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুকুরের মালিক আবুল কালামের বিরুদ্ধে। এ নকশাভুক্ত রাস্তা দখলকারীদের নিকট থেকে পুনরুদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর ।জানা গেছে,এক সময়ে রাস্তাটি দিয়ে স্থানীয়রা চলাচল করতো। কোন এক সময় ওই সরকারি নকশাভুক্ত রাস্তাটি পুকুরের দখলে নেওয়ায় জনসাধারণের চলাচলের দুর্ভোগে পড়েন। অন্যদিকে পুকুরপাড়ের পার্শ্বে আবাদি জমিও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে স্থানীয়দের নিকট পুকুরের পাড় বেঁধে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। দ্রুত সরকারি নকশার রাস্তা পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগ জানা যায়। তাঁরা বলছেন,খালেকের মোড় থেকে শামীম বাজারে যাওয়ার পথিমধ্যে রায়দের পাড়া আমতলা হয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ জোসনার বাড়ির সোজা রাস্তা ছিল। এ রাস্তার ও মোড় সংলগ্ন এলাকায় আবুল কালামের পুকুরের অংশে রাস্তাটি পুকুরে দখলে নেওয়ায় সেটি বিলীন হয়ে গেছে। ফলে জনসাধারণের ওই রাস্তা দিয়ে আর চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই স্থানীয়রা রাস্তাটির ভূমি উদ্ধার পূর্বক একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মনোয়ারুল হক তালুকদার স্বনীল বলেন, “আবুল কালাম ইচ্ছাকৃতভাবে সর্বসাধারণের ব্যবহৃত সরকারি নকশাভুক্ত রাস্তাটি কেটে পুকুরের দখলে নিয়ে মাছ ও হাঁস পালন করেছেন। বর্তমানে পুকুরের পাড় না থাকায় আমার আবাদি ফসলি জমি ভেঙে পুকুরের দিকে যাচ্ছে । একাধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই প্রশাসনের কাছে দ্রুত রাস্তাটির ভূমি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, আলাউদ্দীন, হেদায়েতুল্লাহ ও মোকাদ্দেস আলীসহ অনেকেই জানান, রাস্তাটি এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, সরকারি রেকর্ড ও নকশা যাচাই করে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সরকারি জমি উদ্ধার করে রাস্তাটি পুন:র্নির্মাণ করা হলে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ভাঙ্গন রোধ হবে।অভিযুক্ত মিনহাজ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে একটি রাস্তা ছিল ঠিকই, তবে সেটি পুকুরের আগের মালিকেরা কেটে ফেলেছেন, আমরা কাটিনি। আমরা দ্রুত পুকুরের পাড় বেঁধে দেওয়া এবং রাস্তাটি পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার চেষ্টা করব।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরের পাড় বেঁধে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পাশের আবাদি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এ অবস্থায় শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান তাঁরা।জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ জোসনা বলেন, “এলজিইডির পাকা রাস্তা আমতলা মোড় থেকে পুকুরপাড়ের দক্ষিণ পাশ দিয়ে সোজা একটি কাঁচারাস্তা ছিল। তৎকালীন পুকুরমালিক এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে রাস্তাটি কেটে পুকুরের অধীনে দখল করেন। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, রাস্তাটির ভূমি উদ্ধার করে পুন:রায় জনস্বার্থে রাস্তাটি উন্মুক্ত করার দাবি জানান।এলাকাবাসী জানান, ‘আমতলা মোড়’ নামে পরিচিত স্থানটির ঐতিহ্য ও জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা বজায় রাখতে রাস্তার সঠিক সীমানা নির্ধারণ জরুরি। সরকারি নকশায় রাস্তার অবস্থান ও সীমানা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।স্থানীয় সচেতন মহল বলেছেন, এ ধরনের সরকারি নকশা ভুক্ত ভূমি উদ্ধারে সরেজমিন জরিপের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ ও এর দখলমুক্তকরণ এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ পুনর্নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন ।এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন যে , প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে সরকারি নকশাভুক্ত রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করে পুকুরের পাড় নির্মাণের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির পাশের ফসলি জমি রক্ষা পাবে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধ রাস্তা চালু করে জনসাধারণের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন তারা।