মোঃ শাহজালাল সুমন , স্টাফ রিপোর্টার উত্তরা, ঢাকা ||
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তাঁর উত্তরার বাসভবনে ছুটে গেছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের করবী বাসভবনে গিয়ে তিনি নিহত তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তাহসিফের বাবার সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৮ বছর বয়সী কে এম তাহসিফ সাউরি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়। গত ২৭ অক্টোবর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে নৌ পুলিশের মাধ্যমে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এটি হত্যাকাণ্ড, লাশ নদীতে পাওয়া গেছে তাঁর ছেলে অত্যন্ত সৎ, ভদ্র, বিনয়ী ও সবার কাছে প্রিয় ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন ।পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ, পিবিআই, র্যাব, ডিবিসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা এবং অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আখতার হোসেন, তুরাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ ভুইয়া, যুগ্ম আহবায়ক আলমাস আলী,তুরাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম দুলালসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ওই দিন গণভবন এলাকা থেকে তার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফ সাউরির নাম জড়িয়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও ভিডিওটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তার পরিচিতজনদের কারও কারও দাবি, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচার শুরু হয়। ফলে ভিডিওটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক তার পরিচিতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।