মোঃ আলমগীর হোসেন , তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। ||
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ৭ নম্বর রামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকা, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আসা মানুষ দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। সোহেল মিয়া, সেলিম মিয়া ও আল-আমিনসহ একাধিক ব্যক্তি এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন।ভুক্তভোগী মো. আল-আমিন (পিতা: মৃত মিরাশ উদ্দিন, গ্রাম: হিরারকান্দা, ডাকঘর: গোয়ালকান্দি, থানা: তারাকান্দা) কিছুদিন আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি), তারাকান্দা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গোয়ালকান্দি মৌজার ৩৩৮ নম্বর জেএল, ৪৬১ নম্বর খতিয়ানের ৪১৭ নম্বর দাগের জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও হোল্ডিং সমন্বয়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে তাঁর জমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়।পরবর্তীতে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অবহিত করলে বিধি অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, সরেজমিন তদন্তের পর সেবার বিনিময়ে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ৫ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হলেও সরকারি খাজনার রসিদ দেওয়া হয় মাত্র ১৬৫ টাকার।এ ছাড়া বাহেলা মৌজার ৩৫৩ নম্বর জেএলভুক্ত ১৫৪ নম্বর খতিয়ানের (২ নম্বর রেজিস্টার অনুযায়ী হোল্ডিং নম্বর ১৫৩) জমির ভূমি উন্নয়ন কর আদায় নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইটভাটার জমির খাজনা বাবদ ৫২ হাজার ৭৮৩ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একই জমির খাজনা মওকুফ দেখিয়ে নায়েব নাজমুন নাহার গ্রাহকের কাছ থেকে ৫২ হাজার ৭৮৩ টাকা গ্রহণ করেন এবং সরকারি হিসাবে মাত্র ২০ টাকার রসিদ দেওয়া হয়। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।সেবাগ্রহীতাদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে খাজনার দাখিলা দিতে ‘সার্ভার সমস্যা’র অজুহাত দেখানো হয়। এভাবে তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত ঘোরানোর পর অতিরিক্ত টাকা দিলে কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।নামজারি ও জমাখারিজের ক্ষেত্রেও হয়রানির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁদের দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিলে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাঠানো হয়, অন্যথায় নামজারি বাতিলের সুপারিশ করে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাত্র ২৬৫ টাকার সরকারি ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা নিতে তাঁর কাছ থেকে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ১৮৬ টাকার দাখিলার বিপরীতে ছয় হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অফিস সহায়ক রফিকের মাধ্যমে ঘুষের অর্থ লেনদেন করা হয়ে থাকে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।এদিকে রামপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দাবি, ভূমি অফিসে সেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি ফি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী।তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।