মোঃ আলমগীর হোসেন, , তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি। ||
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। অস্তিত্বহীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও ডিলার নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।প্রকাশিত ডিলার তালিকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, তালিকার ১০০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে শামীম এন্টারপ্রাইজ (প্রোপ্রাইটর: শামীম মিয়া, ঢাকুয়া, তারাকান্দা) এবং ১০৯ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ (প্রোপ্রাইটর: রুবেল মিয়া, রামপুর, তারাকান্দা)। অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ অনুমোদন দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিষ্ঠান দুটির দৃশ্যমান কার্যালয়, দোকান, সাইনবোর্ড কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, রামপুর ইউনিয়নের ডিলারশিপ পাওয়া রুবেল মিয়া ওই ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাঁর স্থায়ী বসবাস একই উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নে। অথচ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অবকাঠামো থাকার বিষয়টি ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে জানা গেছে।এদিকে রামপুর ইউনিয়নের কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যবসায়িক যোগ্যতা নিয়ে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের আবেদন উপজেলা প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত শেষে সুপারিশসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম না থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।অন্যদিকে, ঢাকুয়া ইউনিয়নে শামীম এন্টারপ্রাইজের নামে ডিলারশিপ পাওয়া শামীম মিয়াকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি মূলত একজন আইনজীবীর মুহুরি হিসেবে কাজ করেন। তাঁর নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা দোকান থাকার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় হরিয়াগাই বাজারে খোঁজ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্তের সময় অন্যের দোকান নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিজস্ব দোকান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য আবেদনকারী ডিলারশিপ পাননি। বিপরীতে যেসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ অনুমোদন দেওয়ায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিতর্কিত ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, সরেজমিন তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, টিসিবির ডিলার নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত যোগ্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু নিয়োগে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সরকারি এ উদ্যোগের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।তাই বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব ও মালিকানার সত্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিল করে নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।