খাদেমুল ইসলাম! , নিজস্ব প্রতিবেদক পঞ্চগড়! ||
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬৪ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিরোধ দেখা দিয়েছে। জমির মালিকানা দাবি করে এক পক্ষের সংবাদ সম্মেলনের পরদিন পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে অপর আরো একটি পক্ষ। এ সময় রাতের আঁধারে জমির আমন ধান কেটে নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপপ্রচারের অভিযোগ করা হয়।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী পরিবার সদস্য উপজেলার মাথাফাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী আকবর, ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সিরাজুল ইসলাম, জাহেরুল, জিরারুল, খলিলুর, সফিকুল, সাহাদত ও আব্দুর রাজ্জাক লেদুসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আলী আকবর অভিযোগ করেন, মাথাফাটা মৌজার এসএ খতিয়ান নং-২৪০ ও এসএ দাগ নং-৬৬৩-এর অন্তর্ভুক্ত ৬৪ শতক জমির প্রকৃত মালিক তাঁরা। জমিটি কখনো বিক্রি করা হয়নি। অথচ একই গ্রামের রবিউল ইসলাম ও তাঁর শ্বশুর মরহুম আবুলগিরীর পরিবারের সদস্যরা জমিটি নিজেদের দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।তিনি বলেন, তাঁর বাবা মৃত ওয়াহেদ আলী সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের আংশিক রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে তাঁরা জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের পর জমিটির মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।আলী আকবর আরও অভিযোগ করেন, গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে তাঁদের রোপণ করা আমন ধান কেটে নিয়ে যান। এ ঘটনায় একই গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম (৫০), তাঁর স্ত্রী মোছা. আছমা (৪০), মোছা. তহুরা (৬৫), মো. আদনান (২০), মো. আবু সাঈদ (২০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে অভিযুক্ত করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রতিপক্ষ রবিউল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে একই ৬৪ শতক জমির মালিকানা দাবি করেন। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।তাঁদের দাবি, জমিটির মালিকানা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন। এর পরও প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা, ধান কেটে নেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ পঞ্চগড়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এনজিআর-৩৪/২৬ (টি) নম্বর মামলা দায়ের করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আলী আকবরের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৭ নভেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী দাবি করা পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রবিউল ইসলামের শ্বশুর মরহুম আবুলগিরীর পরিবার কৌশলে জমিটি ভোগদখল করে আসছিল। সম্প্রতি ভূমি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংগ্রহ করে তাঁরা মালিকানা দাবি করলে প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।আলী আকবর বলেন, ‘আমরা জমিটি কখনো বিক্রি করিনি। আমাদের কাছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকার পরও প্রতিপক্ষ আমাদের ধান কেটে নিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’এদিকে জমিটির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন প্রতিপক্ষ রবিউল ইসলাম ও মরহুম আবুলগিরীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি অপর পক্ষ জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তাঁরা।রবিউল ইসলামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অপর পক্ষ জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। তাঁরাও জমি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।একই জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির ফলে এলাকায় বিরোধ তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে কাগজপত্র থাকার কথা জানিয়েছে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, ভোগদখলের আইনগত অবস্থান ও ধান কাটার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষ। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টা এব্যাপার তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ওসি লাইছুর রহমান জানান, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের কথা তিনি শুনেছেন। জমির বিরোধ নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে আদালতে এবং তদন্তের কাজ চলমান।