মোঃ আবুল হোসেন, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মো. মনোয়ারুল হাসান মিলন (৫১) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের ছাতারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় তাঁর নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে তাঁকে জামালপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃত মনোয়ারুল হাসান মিলন সাতপোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় হামলা, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা, লুটপাট ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মামলাটির বাদী মো. ছামিউল হক রিপন (৪৭)। তিনি সরিষাবাড়ী পৌর বিএনপির একটি ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিলন ও তাঁর সহযোগীরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বাধা দেওয়া, মারধর এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়েছে।অভিযোগ আরও উল্লেখ , বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবিসহ অন্যান্য ছবি নামিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন পুলিশের!এ ছাড়াও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি দলীয় কার্যালয়ের তালা খোলার চেষ্টা করলে মারধর ও কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে , মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।এ ছাড়া মনোয়ারুল হাসান মিলনের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় দায়ের করা তিনটি মামলা ২০০৮, ২০২৪ ও ২০২৬ ইং সালের পৃথক মামলা রয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিলন কে কারাগারে আটক রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদনও আদালতে করা হয়েছে বলে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।