মোঃ আবুল হোসেন, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার দুই সশ্রাধিক গ্রাহকের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির পরিচালকদের বিরুদ্ধে। জমাকৃত টাকা ফেরত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার সয়া বাজারে অবস্থিত গ্রামীণ সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সরিষাবাড়ী ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাত শতাধিক ভুক্তভোগী সদস্যদের সাথে অনন্যা সমিতি গুলোর গ্রাহকরা একাত্মতা ঘোষণা করে এ মানববন্ধনে অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সয়া বাজারে অবস্থিত গ্রামীণ সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, একতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং সয়া পল্লী উন্নয়ন সংস্থা, স্বপ্ননীড় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ, স্মৃতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করেন। গ্রাহকের টাকা ফেরার চাইতে গেলে তারা কালক্ষেপনের এক পর্যায়ে গত ২০ অক্টোবর গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এর আগের দিন ১৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সদস্যরা।গ্রামীণ সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে সাত শতাধিক গ্রাহকের ডিপিএস ও এফডিআরের প্রায় ১৯ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া একই এলাকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের বিরুদ্ধেও বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দুই সহস্রাধিক গ্রাহকদের ডিপিএস ও এফডিআরের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বলে দাবি তাঁদের। জনসাধারণের জমাকৃত অর্থ আত্মসাতের সাথে ধনবাড়ী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা -কর্মচারীর যোগসাজশে এ আত্মসাথের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকেই।ভুক্তভোগী সদস্যদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার সঙ্গে ধনবাড়ী উপজেলার মৃত সিরাজ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, সাইদুর রহমান গুটুর ছেলে শামসুল ইসলাম, মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে শামসুল হক (ভুট্ট) এবং হাবিল উদ্দিনের ছেলে জামিল হোসেন জড়িত ছিলেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সরিষাবাড়ী উপজেলার পঞ্চাশী গ্রামের শফিকুল ইসলাম, স্বপ্না বেগম, সদস্য নুরজাহানের পক্ষে হীরা বেগম, লোকনাথপুর গ্রামের তোতা মিয়া, কালিকাপুর গ্রামের তাছলিমা বেগম, কৃষ্ণপুর গ্রামের আবু তালেব, ডোয়াইল গ্রামের এক ভুক্তভোগী এবং ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান গ্রামের ফরিদা বেগম, ঝোকনা মুসুদ্দি গ্রামের ফিরোজা বেগম ও মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।বক্তারা বলেন, কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ গরু-ছাগল ও ভেড়া বিক্রি করে, আবার কেউ গার্মেন্টসে চাকরি কিংবা প্রবাসে উপার্জন করা অর্থ অধিক মুনাফার আশায় এসব প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে এখন তাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে সংসার চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন এবং সংসার ভাঙছেন । এ সময় কয়েকজন ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।তাঁরা আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রাহকদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।