প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
রাবি ছাত্রীকে প্রকাশ্যেই ধর্ষণের হুমকি
মো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: ||
রাবি ছাত্রীকে প্রকাশ্যেই ধর্ষণের হুমকিমো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি ও সংবাদের তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে ভিডিও করার সময় এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় ভুক্তভোগী রাবি শিক্ষার্থী প্রথমে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উল্টো ফিরিয়ে দেওয়া হয় ভুক্তভোগীদের। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে একটি মামলা হিসেবে গৃহীত হয়।অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত নগরের বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তার ভাই মো. শুভসহ অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বাড়ি নগরের বোয়ালিয়া থানার বড়কুঠি বালুরঘাট এলাকায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি থানায় জানালে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি উল্টো পুলিশকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেই ওই তরুণীকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করা হয়। পরে তরুণী থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হয়নি।তাদের দাবি, পরে রাতে পুলিশ অভিযুক্তদের থানায় ডেকে আনে। তখন ২০-২৫ জন দলীয় নেতাকর্মীও যান। তবে মামলা না থাকায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়নি। এ সময় থানার ভেতরেও ভুক্তভোগীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তরুণীকে নিরাপদে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে অভিযুক্তরা থানা থেকে চলে যান। পরদিন রোববার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে থানায় ডেকে এনে তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়।শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর পদ্মা নদীর পাড়ে বড়কুঠি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে প্রাথমিক তদন্তের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম। এ ব্যাপারে তিনি রবিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী প্রথমে যেভাবে অভিযোগ লিখে এনেছিলেন, তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যেত না। এ কারণে তখন মামলা নেওয়া যায়নি। পরে অভিযোগের তদন্তের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার এক বন্ধুকে নিয়ে বড়কুঠি এলাকায় আয়োজিত লিটারারি ফেস্টিভ্যাল দেখতে যান। সেখানে মোটরসাইকেল রাখার সময় টিকিট দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে প্যান্টের চেইন খুলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের হুমকি দেন। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান শান্ত বলেন, ঘটনাস্থলে তর্কবিতর্ক হয়েছে, তবে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক দাবি করেন, অভিযুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা এবং ঘটনাস্থলে তার স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটার প্রশ্নই আসে না এবং অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সে কারণেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।এদিকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধরের হুমকির ঘটনাটি জানার পর সেখানে কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হলে সেখানে এক সাংবাদিককে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) একটি প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন আরইউজে’র সাংবাদিকবৃন্দ।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ