প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
টেকনাফ ইনানী উপকূল থেকে মালয়েশিয়া গমন: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, ৯ জন উদ্ধার, দুই শতাধিক নিখোঁজ
জামাল উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ||
টেকনাফ ইনানী উপকূল থেকে মালয়েশিয়া গমন: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, ৯ জন উদ্ধার, দুই শতাধিক নিখোঁজজামাল উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:- সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার আন্দামান সাগরের কাছে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ভাসমান অবস্থায় রোহিঙ্গাসহ ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফের নোয়াখালী ও রাজারছড়া এলাকা থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে তাদের একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়। প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আট দিনের মাথায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানান, ট্রলারটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর তারা পানির বোতল ও তেলের ট্যাংকি ধরে দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে একটি বাংলাদেশি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। তবে বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “কাজের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একটি পাহাড়ে আটকে রাখা হয়, যেখানে আরও ৫০-৬০ জন ছিল। গভীর রাতে আমাদের কার্গো বোটে তোলা হয়। সেখানে গিয়ে দেখি প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ গাদাগাদি করে বসে আছে।”তিনি আরও জানান, “৮ দিন সাগরে চলার পর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছালে মাঝিদের সঙ্গে যাত্রীদের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে সবাইকে জিম্মি করে বরফঘরে ঢুকিয়ে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পরই ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে আমরা কয়েকজন দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকি, এরপর একটি বাংলাদেশি জাহাজ আমাদের উদ্ধার করে।”টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার ফেরত আসা সোহান উদ্দিনের বাবা শামসুর আলম বলেন, “এক বন্ধু আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে জানতে পারি তাকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানো হয়েছে। থানা থেকে খবর পেয়ে গিয়ে দেখি, সে অসুস্থ অবস্থায় আছে।”অন্যদিকে কুতুপালং ক্যাম্পের মো. ইমরান বলেন, “ক্যাম্পের জীবন থেকে মুক্তি পেতে এই পথে যাই। কিন্তু ট্রলারডুবির পর দুই দিন সাগরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছি। এত মানুষ মারা গেছে ভাবতেই পারছি না।”এ ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার তথ্যমতে, ‘তানজিনা সুলতানা’ নামের বোটে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীরা বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন।টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানান, গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজে হস্তান্তর করা হয়।উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:মো. ইমরান, রাহেলা বেগম, হৃদয়, সোহান উদ্দিন, মো. আকবর, রফিকুল ইসলাম, তোফায়েল, সায়াদ আলম ও মো. হামিদ।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ