প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বৈশাখি আমেজে মঙ্গল শোভাযাত্রা, গ্রামীণ খেলা ও লোকজ মেলায় মুখর চবি ক্যাম্পাস
মো: ইলিয়াছ মিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। ||
বৈশাখি আমেজে মঙ্গল শোভাযাত্রা, গ্রামীণ খেলা ও লোকজ মেলায় মুখর চবি ক্যাম্পাসচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। ‘এসো প্রাণের উৎসবে, জাগো নব আনন্দে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাঙালিয়ানার জয়গানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস।সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বেলুন উড়িয়ে এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। এছাড়াও শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সহ প্রশাসননিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষার্থী বৃন্দ। শোভাযাত্রায় চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের তৈরি করা বিশালাকার মাছ, ঘোড়া এবং পাখির বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়।এরপর জারুলতলার মূল মঞ্চে শুরু হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতি ও লোকনৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিকেলে আমন্ত্রিত ব্যান্ড দল ‘সরলা’-এর বিশেষ পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ দেয়।চবি ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় দিনব্যাপী বসেছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী ও লোকজ মেলা। মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের শৌখিন পণ্য ও দেশি খাবারের স্টলে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিনোদনের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে নাগরদোলা ও ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচেরও আয়োজন রয়েছে।এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সব খেলাধুলা। উন্মুক্ত মঞ্চে জমজমাট ‘বলি খেলা’, চাকসু প্রাঙ্গণে ‘বউচি’ এবং বুদ্ধিজীবী চত্বরে ‘কাবাডি’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা।উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। দীর্ঘ বিরতির পর চারুকলার শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন চবি ক্যাম্পাসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।” অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ