প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
চসিক ও সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (এমএসএফ) -এর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম। ||
চসিক ও সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (এমএসএফ) -এর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরমোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা কার্যক্রম জোরদার করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা Médecins Sans Frontières (সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল/এমএসএফ)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র Dr. Shahadat Hossain, এমএসএফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর (দেশীয় পরিচালক) Jason Mills এবং কান্ট্রি চিফ ফর হেলথ (দেশীয় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) Dr. Carmenza Galvez। এই সমঝোতার মাধ্যমে ডেঙ্গুজনিত ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও কার্যকর সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।চট্টগ্রামে ডেঙ্গু বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। সারা বছর সংক্রমণ এবং ঘনঘন প্রাদুর্ভাবের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ডেঙ্গু মহামারিতে সারা দেশে ১,৭০৫ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। প্রাথমিক শনাক্তকরণ, কেস ব্যবস্থাপনা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এমএসএফ আমস্টারডাম-এর উপ-চিকিৎসা পরিচালক এবং এমএসএফ-ইউকে’র ম্যানসন ইউনিটের পরিচালক Dr. Matthew Coldiron বলেন,“বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ডেঙ্গু একটি জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগ। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে এমন একটি উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব শুরু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।”চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র Dr. Shahadat Hossain এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,“আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (এমএসএফ)-কে পাশে পেয়ে আনন্দিত। ডেঙ্গু বর্তমানে নগরবাসীর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।”এই অংশীদারিত্বের আওতায় চসিক ও এমএসএফ একটি ছয়-স্তম্ভভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে রয়েছে—মশা নিয়ন্ত্রণ জোরদার, রোগ শনাক্তকরণের জন্য নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা বাড়ানো, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা উন্নয়ন, ডেঙ্গু বিষয়ক গবেষণা এবং সচেতনতা ও নীতিগত কার্যক্রম (অ্যাডভোকেসি) জোরদার করা।উল্লেখ্য, Médecins Sans Frontières (এমএসএফ), যা “সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল” নামে পরিচিত, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা। সংস্থাটি সংঘাত, মহামারি, দুর্যোগসহ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে থাকে।বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এমএসএফ চট্টগ্রামে একটি বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। Directorate General of Health Services (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে একটি টেকসই ও কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ