প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: কঠোর শাস্তির দাবি
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ||
পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: কঠোর শাস্তির দাবিঅপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. শামীম খানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা পড়েছে।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শামীম খান দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা না হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে—অভিযোগের পরিধি বেশ বিস্তৃত এবং গুরুতর। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব অবৈধ লেনদেন গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন।এ বিষয়ে জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী মো. সাদিকুর রহমান জানান, ২০১২ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই শামীম খান বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তার দাবি, এসব অবৈধ আয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি কুয়াকাটায় নিজের ও স্ত্রীর নামে হোটেল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এবং বিপুল পরিমাণ জমিজমা ক্রয় করেছেন। তিনি আরও বলেন, একসময় তাকে নড়াইল জেলা পরিষদে বদলি করা হলেও প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে সেই আদেশ বাতিল করা হয়।একই দপ্তরের নিম্নমান সহকারী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়গুলো লক্ষ্য করে আসছি। অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে আমাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”অন্যদিকে, উচ্চমান সহকারী মো. এনামুল কবির বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুতর। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং তখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।”তারা আরও অভিযোগ করেন, অতীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে তা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। এমনকি একটি কথিত ‘শিশুপার্ক অর্থ কেলেঙ্কারি’র সঙ্গেও শামীম খানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন।এদিকে, অভিযোগের অনুলিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিযোগকারীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কোনো প্রকার প্রভাব বা বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।এ বিষয়ে প্রধান সহকারী মো. শামীম খানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি এসকল দাবি মিথ্যা বলে অভিযোগ করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ