প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
মোল্লাহাটে সোহাগ হত্যা: রিমান্ডে মিলছে পরিকল্পনার তথ্য, জড়িতদের ধরতে জোর অভিযান
আল হাফিজ শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: ||
মোল্লাহাটে সোহাগ হত্যা: রিমান্ডে মিলছে পরিকল্পনার তথ্য, জড়িতদের ধরতে জোর অভিযানআল হাফিজ শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আলোচিত সোহাগ শেখ হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।গত ১৪ মার্চ শনিবার রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে মোল্লাহাট বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সোহাগ শেখ। পথে পান বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ৭ মার্চ রাতে সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নুর ইসলাম (২৭) একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ইয়াসিন বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল পুলিশ বাপ্পী মল্লিক ওরফে ‘ব্ল্যাক বাপ্পী’ (৩২) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পূর্বে ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।শুক্রবার ও শনিবার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পী মল্লিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার ভাষ্যমতে, সোহাগ শেখের বোন হত্যা মামলার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। ওই মামলায় সোহাগ বাদী ছিলেন এবং তার ভগ্নিপতি মাহামুদ শিকদার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৬ সালের একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালীন মাহামুদের সঙ্গে বাপ্পীর পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই সোহাগকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে মোট পাঁচজন অংশ নেন। বাপ্পী নিজে একটি মোটরসাইকেলে একা ছিলেন এবং তিনি গুলি করেননি বলে দাবি করেছেন। অন্য দুটি মোটরসাইকেলে চারজন ছিলেন, যাদের মধ্যে দুজন সোহাগকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। হামলার পর সবাই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক আরো জানান, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য, পূর্বের হামলার সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগ এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।এদিকে, ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সকল আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার রহস্য উদঘাটনে তারা আশাবাদী এবং শিগগিরই পুরো ঘটনার চিত্র স্পষ্ট হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ