প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর নৃশংস হামলা: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদ, মামলা গ্রহণ ও ভূমিদস্যুদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিনব্যাপী উত্তাল বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ||
গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর নৃশংস হামলা: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদ, মামলা গ্রহণ ও ভূমিদস্যুদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিনব্যাপী উত্তাল বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিতমোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক বর্বরোচিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও প্রতিবাদের স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন ও ভূমি দখলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র ও মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভভরে বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূমিদস্যুদের সংগঠিত দখলচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের এক সুপরিকল্পিত অপচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ। তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাঁওতালদের নিজস্ব বসতভিটা ও আবাদি জমি দখলে নিতে বারবার এমন সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে।বিক্ষোভকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে জোরালো স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা। “মামলা নিতে হবে”, “ভূমিদস্যুদের গ্রেফতার করতে হবে”, “সাঁওতালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে”—এমন নানা দাবিতে সরব হয়ে ওঠেন তারা। বক্তারা অবিলম্বে মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, এবং জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।সমাবেশে আরও বলা হয়, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী এভাবে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে পারে না। সাঁওতালদের সাংবিধানিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এই নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলেও বক্তারা সতর্ক করেন।বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি দ্রুত মামলা গ্রহণ ও আসামিদের গ্রেফতার করা না হয়, তবে আন্দোলনকারীরা কঠোরতর কর্মসূচি—যেমন লাগাতার মানববন্ধন, জেলা অবরোধসহ বৃহত্তর গণআন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবেন।বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।এদিকে, ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাঁওতাল পল্লীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো শঙ্কা কাটেনি।সচেতন মহল মনে করছে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত শাস্তির মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ