মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: ||
গাইবান্ধায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা: নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথম দিন সম্পন্নমোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গাইবান্ধা জেলায় আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়, যা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। প্রথম দিনেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।এবার জেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল—এই তিন ধারায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫২৭ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা শাখায় অংশ নিয়েছে ২৬ হাজার ২৮৫ জন শিক্ষার্থী; যার মধ্যে ছাত্র ১৩ হাজার ৮৪৬ জন এবং ছাত্রী ১২ হাজার ৪৩৯ জন। দাখিলে পরীক্ষার্থী রয়েছে ৫ হাজার ৯০৮ জন এবং ভোকেশনালে অংশ নিচ্ছে ২ হাজার ৫৯৮ জন।জেলায় মোট ৩৬১টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৬৮টি কেন্দ্র। এর মধ্যে এসএসসি ৪২টি, দাখিল ১১টি এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) মিলিয়ে ১৫টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক এবং অভিভাবকদের মাঝেও লক্ষ্য করা গেছে স্বস্তির আবহ।পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন গ্রহণ করেছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও নেটওয়ার্ক জ্যামার, যাতে প্রশ্নফাঁস বা অনৈতিক কার্যক্রমের কোনো সুযোগ না থাকে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর উপস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করছে।বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছে মানবিক উদ্যোগ। তাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পরিবহন ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষার্থীরা যখন মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন বাইরে আরেকটি আবেগঘন দৃশ্য চোখে পড়ে। অসংখ্য অভিভাবক গেটের বাইরে অপেক্ষা করছেন তাদের সন্তানের জন্য। কেউ ছায়ায় দাঁড়িয়ে, কেউ রোদের মধ্যেই উদ্বিগ্ন চোখে সময় গুনছেন—সন্তান যেন ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে হাসিমুখে বের হতে পারে, সেই প্রত্যাশায়। অনেকের হাতে পানির বোতল, কেউবা দোয়া-প্রার্থনায় মগ্ন—সব মিলিয়ে অভিভাবকদের এই উপস্থিতি পরীক্ষার পরিবেশে যোগ করেছে এক মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী মাত্রা।শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের এই উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।উল্লেখ্য, লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। জেলার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।