মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম): ||
দক্ষিণ রাউজানে মা মগধেশ্বরী পূজা উপলক্ষে মহতী ধর্মসভা ও অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞমিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার দক্ষিণ রাউজান নোয়াপাড়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিপ্লবী বীর মাস্টারদা সূর্য সেন পল্লীতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সার্বজনীন শ্রী শ্রী মা মগধেশ্বরী পূজা উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মাস্টারদা সূর্যসেন স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে সূর্যসেন পল্লীস্থ মা মগধেশ্বরী মাতৃমন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় মহতী ধর্মসভা ও অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ।তিন দিনব্যাপী এ বর্ণাঢ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার (১০ বৈশাখ) রাতে শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে। পরদিন ২৫ এপ্রিল শনিবার উষালগ্নে মহানামযজ্ঞের শুভারম্ভ হয়। দিনব্যাপী মন্দিরে ভোগ নিবেদন, আনন্দ বাজারে অন্নপ্রসাদ বিতরণ এবং ভক্তদের অংশগ্রহণে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গভীর রাতে খুলনার শ্রী শ্রী ভবতারিণী অষ্টসখী সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ ‘রাসলীলা’ অনুষ্ঠান ভক্তদের মুগ্ধ করে।মহাসমারোহে আয়োজিত এই নামযজ্ঞে দেশের বিভিন্ন প্রখ্যাত কীর্তনীয়া দল নামসুধা পরিবেশন করেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ছিল—শ্রী শ্রী গুরুভক্তি সম্প্রদায় (সন্দ্বীপ), শ্রী শ্রী ভবতারিণী অষ্টসখী সম্প্রদায় (খুলনা), শ্রী শ্রী মহানাম সম্প্রদায় (ধর্মপুর) এবং শ্রী শ্রী জয় মহাপ্রভু সম্প্রদায় (সিলেট)।মহোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি কার্তিক বিশ্বাস, সহ-সভাপতি রূপন দে ও বিপ্লব দে, সাধারণ সম্পাদক তাপস সেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুজন দে ও ছোটন সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিকাশ সেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ ধর ও সজীব দে সহ কার্যকরী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে গীতাপ্রশিক্ষক ও বাগীশিক রাউজান উপজেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অর্পণ মহাজন (রিপু)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মন্দিরের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সরকারের সুদৃষ্টি এবং সর্বস্তরের মানুষের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে মন্দিরের বিকাশ নাম্বার ০১৮২০ ০০৫১০০রবিবার (২৬ এপ্রিল) ব্রহ্মমুহূর্তে মহানামযজ্ঞের পূর্ণাহুতি ও নগর পরিক্রমার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।আয়োজকরা জানান, জগতের সকল জীবের মঙ্গল ও শান্তি কামনায় এই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভক্তকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিকে পুরো নোয়াপাড়া এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে এক আনন্দঘন ও ভক্তিময় পরিবেশ, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্তের সমাগম ঘটে।