শফিকুল ইসলাম নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ||
হাওড়ে পানি বেড়ে যাওয়া ও প্রবল বর্ষনের কারণে ধান কাটা নিয়ে কৃষকেরা দিশেহারা । শফিকুল ইসলাম নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন বোরো জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকেরা অপরিপক্ক ধান পর্যন্ত কাটতে শুরু করেছেন। স্থানীয়রা নদী ভরাট এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণসহ খাল বিলের দখল দায়িত্বের জন্যে অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি বলে যুক্তি দাঁড় করান। উপযুক্ত সময়ে বিক্রির ক্ষেত্রেও মিলছেনা সঠিক মূল্য। এলএসডি গোডাউনে মজুদের জন্যে ১৪৪০ টাকা দরে ধান কিনার অনুমতির তথ্য থাকলেও পরিমাণ এখনো চুড়ান্ত হয়নি।জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিক সংকট এবং কোনো ধরণের বড় অভিযোগের চিত্র দেখা যায়নি কোনো হাওরে। চলতি বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হতে পারে।হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার কিশোরগঞ্জের নিকলী, বাজিতপুরসহ আশেপাশের হাওরের বিভিন্ন স্থানে তুলনামূলক নিচু জমিতে পানি বাড়ার কারণে কৃষকরা অপরিপক্ক ধান কাটতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি, ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকেরা ধান কাটার শ্রমিক এবং হার্ভেস্টার মেশিনের সংকটে ভুগছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে জ্বালানির জন্যে। চলতি মৌসুমের শুরুতে শ্রমিকদের মজুরি প্রতি দিন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে হলেও, হাওরের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। পানি থাকার কারণে ধান কাটায় বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি, চাহিদা অনুযায়ী তেলের সরবরাহ না থাকায় অনেক কৃষক মেশিন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন শতকরা ৮০% ধান পেকে গেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিক চিন্তা করে দ্রুত ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কৃষকদের নির্দেশ দিয়েছ। নিকলীর বিভিন্ন হাওরের রাস্তা সংস্কারের অভাবে মালামাল আনা নেওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। খরচ বাড়ার পাশাপাশি পানি বাড়ার শঙ্কায় তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। নিকলী উপজেলা সদরের শ্রমিক কামাল হোসেন বলেন, পানি বাড়ার কারণে শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও, কৃষকরা তুলনামূলক কম পাকা ধান দ্রুত কাটছেন। এতে হাওর খালি হতে শুরু করেছে। হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কারণে গরু-মহিষের খাদ্য সংকটও দেখা দিতে পারে বলে তার মতো অসংখ্য শ্রমিকের অভিমত।নিকলী উপজেলা সদরের কৃষক আঃ আউয়াল ক্বারী জানান, চলতি বছরে ধানের মূল্য তুলনামূলক কম। পরিপক্ক ধান মন প্রতি ৭০০থেকে ৮০০ টাকা। সার্বিক খরচ হিসাব করে এ দামে কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন না।নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু জানান, চলতি বছরে সরকার ১৪৪০ টাকা মনে ধান কিনবেন এলএসডি গোডাউনে মজুদ রাখার জন্যে। তবে উপযুক্ত সময়ে মাঠ পর্যায়ে নিকলীতে কত পরিমাণ আর কেনইবা এই মুহূর্তে কেনা হচ্ছে না এমন জবাবে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে এর সঠিক তথ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।জেলা উচ্চমান সহকারী বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১৪৪০ টাকা দরে এলএসডি গোডাউনের জন্যে ধান কেনার কথা জানা গেলেও জেলায় কি পরিমান কেনা হবে তা এখনো জানা যায়নি। তাছাড়াও উপযুক্ত সময়ে না পেলে মাঠ পর্যায়ের কৃষকেরা সুবিধাবঞ্চিত হন। এমন জবাবে এটা জাতীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে জেলা কৃষি অফিসার ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি কৃষকদের উপযুক্ত মূল্য পাওয়ার জন্য তার বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চান। চলতি বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ সেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। জেলায় চলতি বছরে প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন বোরো উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।