অপূর্ব সরকারি, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ||
রাঙ্গাবালীতে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে মুগডাল ক্ষেত, ক্ষতির মুখে কৃষকঅপূর্ব সরকারি, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে মুগডালের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষকরা। ধানের তুলনায় অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মুগডাল চাষের দিকে ঝুঁকছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ মুগডাল ক্ষেত হাঁটু সমান পানির নিচে ডুবে আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধাপাকা ডাল দ্রুত কেটে তোলার চেষ্টা করছেন। এতে ফলন যেমন কমছে, তেমনি বাজারমূল্যও কমে যাচ্ছে। ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাঙ্গাবালীর ৬টি ইউনিয়নে মোট ১৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে মুগডাল আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮৯৪ হেক্টর কম। এছাড়া ১ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বাদাম এবং ১ হাজার ২২০ হেক্টরে মরিচ আবাদ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ রবিশস্য কৃষকরা ঘরে তুলতে পেরেছেন, বাকিগুলো এখনও মাঠে রয়েছে।সরে জমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে খেতগুলোতে পানি জমে ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষক-কৃষাণীরা জীবন বাঁচানোর মতো তাড়াহুড়ো করে পানির নিচে থাকা ডাল, বাদাম ও মরিচ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ফসল কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে টানা বর্ষণে সব ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ভূইয়া কান্দার খইয়ার খালের বিলের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত একটি স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।একজন কৃষক বলেন, “আমাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছে। বছরের পরিশ্রম চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদি পানি নামানোর ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এই ক্ষতি হতো না।”এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, বৃষ্টিপাত হলেও অধিকাংশ স্থানে তেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি এবং বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে—যেখানে কৃষকদের চোখে এখন শুধুই হতাশা আর অনিশ্চয়তা।প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ধাক্কা সামাল দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাঙ্গাবালীর কৃষি অর্থনীতি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।