জাহাঙ্গীর আলম,জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:- ||
মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি এমপি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।জাহাঙ্গীর আলম,জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে মাদকবিরোধী সচেতনতা জোরদার করতে এক ব্যাপক জনসম্পৃক্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করতে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত মাননীয় প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করা হয় এবং মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্য আলোচনা উপস্থাপন করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “মাদক একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সক্ষম। এটি শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।” তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে।তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং জনগণকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।”বিশেষ অতিথি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ তার বক্তব্যে বলেন, “মাদক নির্মূল শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে হবে।” তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ, যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, মাদক কারবারিরা নানা কৌশলে সমাজে প্রবেশ করছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তারা মাদকসেবীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানান।সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ জনগণও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মাদক নয়, খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীলতাই হোক জীবনের পথ।”অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন। শপথে তারা মাদক থেকে দূরে থাকার এবং অন্যদেরও সচেতন করার অঙ্গীকার করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।