জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া :- ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিএনসি’র অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার।জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া :- রাধিকা বাজার এলাকায় ভোরবেলা অভিযান—দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও সাফল্য অর্জন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জেলার সদর মডেল থানাধীন সুলতানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (০২ মে ২০২৬) সকালবেলায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম সকালেই সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধিকা বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সকাল ০৭:৩০ থেকে ০৮:১০ ঘটিকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সুলতানপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘জুয়েল ইলেকট্রনিক্স’ নামক ওয়ালটন শো-রুমের সামনে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করা হয়।আটককৃত যুবকের নাম মোঃ এবাদুল হক (২৮)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভাটি সাভার এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মোঃ মনু মিয়া এবং মাতা দেলোয়ারা বেগম।ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ৩০০ (তিনশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সে একটি বৃহত্তর মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিদর্শক জনাব সোহরাব হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।ডিএনসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সচেতন মহল মনে করছে, মাদক শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, পুরো সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।সচেতনতামূলক বার্তা: মাদক সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।