জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্ব মেড্ডায় ড্রেন অবহেলার চরম দৃষ্টান্ত।বছরের পর বছর নীরব পৌরসভা, জনদুর্ভোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী—দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পূর্ব মেড্ডা এলাকায় কবরস্থান সড়কের ডান পাশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার শিকার হয়ে পড়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে কোনো সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় এলাকাটি এখন একপ্রকার দুর্ভোগের নরকে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, রায় সাহেব বাড়ির পশ্চিম দিক থেকে শুরু করে তিতাস নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই ড্রেনটি ময়লা-আবর্জনায় পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। পলিথিন, নর্দমার বর্জ্য ও নানা ধরনের আবর্জনার স্তূপে পানি চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে—যেন এটি কোনো ড্রেন নয়, বরং একটি স্থায়ী জলাবদ্ধতার উৎস।এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে পরিবেশ দূষণ চরম আকার ধারণ করেছে এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। অথচ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথাব্যথাই নেই।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ড্রেনটির ওপর কোনো স্ল্যাব বা ঢাকনা নেই। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা। ইতোমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে, কিন্তু তারপরও কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া জনমনে প্রশ্ন তুলেছে—কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছে কি প্রশাসন?স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধুমাত্র অবহেলা নয়, বরং দায়িত্বে চরম গাফিলতি। একাধিকবার পৌরসভায় অভিযোগ ও আবেদন জানানো হলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ড্রেনটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তারা সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহফুজুর রহমান এবং জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়—এটি জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। তাই আর কালক্ষেপণ নয়, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।