মোঃ রাসেল আহমেদ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি ||
নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ; ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, জীবন সংশয়মোঃ রাসেল আহমেদ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।মেয়েটির মা গত ৩০ এপ্রিল মদন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে পাঁচহার গ্রামে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং বর্তমানে সেখানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তার স্ত্রী ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকা।অভিযোগের বিবরণএজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এরপর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। গত এপ্রিল মাসে শিক্ষক ছুটি নিয়ে আর ফিরে আসেননি।শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে তার মা সিলেট থেকে ফিরে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। শিশুটি তখন ধর্ষণের কথা জানায়। পরে তাকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।চিকিৎসকের বক্তব্যডা. সায়মা আক্তার জানান, শিশুটি প্রায় ২৭ সপ্তাহের (৭ মাসের বেশি) অন্তঃসত্ত্বা। তার বয়স মাত্র ১১ বছর, উচ্চতা ৪.৫ ফুটের নিচে এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। শিশুটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় (হিমোগ্লোবিন ৮.২) ভুগছে, অপুষ্টি ও কৃমির সমস্যাও রয়েছে।তিনি আরও বলেন, “শিশুটির পেলভিসের মাপ খুবই ছোট (৫০-৫৫ মিমি), অথচ গর্ভস্থ শিশুর মাথার মাপ অনেক বড়। স্বাভাবিক প্রসব প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় মা ও সন্তান উভয়ের জীবনই ঝুঁকিতে। সিজারিয়ানের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিয়া নির্ধারণও বড় চ্যালেঞ্জ।”শিশুটি মানসিকভাবে অত্যন্ত আতঙ্কিত ও ট্রমায় রয়েছে। সে এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারছে না তার সাথে কী ঘটেছে।পুলিশের অবস্থান মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।