মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি :- ||
নিয়োমিত অফিস করেন না নবীনগর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি :-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খান পৌরসভার দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।সময়মতো অফিসে না আসা, অনুমতি ছাড়াই আগেভাগে দফতর ত্যাগ করা এবং নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার কারণে পৌরসভার নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পারিবারিক কারনে ৪মে থেকে পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত ছুটি নিয়েছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খান। অথচ তিনি ২৯ এপ্রিল বুধবার থেকেই নবীনগর পৌরসভায় অনুপস্থিত রয়েছেন। জানা যায়, তিনি অনুপস্থিত থাকলেও পৌর সভার সকল কাগজপত্রে আগাম স্বাক্ষর করে রাখেন তিনি। আজ ০৪ মে সোমবার নবীনগর পৌরসভায় গিয়ে জানা যায়, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ায় পৌরসভার অফিসে উপস্থীতির স্বাক্ষর দিতে হয় না। পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারির উপস্থিতি ও সেবা প্রদানের বিষয় নিশ্চিত করার কথা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার।সেখানে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই অনুপস্থিত থাকেন অফিসে।জানা যায়, এতে করে পৌর সভার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে হাজির হন না। এমন পরিস্থিতি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কেউ দেরিতে আসেন, কেউ আবার দিন শেষে দায়িত্ব পালন না করেই আগেভাগে চুপিসারে দফতর ত্যাগ করেন। এতে করে পৌরসভায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যেতে হয় অনেককে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং তারা প্রকাশ্যেই গণকর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অমান্য করছেন।অভিযোগ রয়েছে এই অনিয়মের শীর্ষে রয়েছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খান নিজেই। প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও দফতর ব্যবস্থাপনার প্রধানের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।দায়িত্বশীলরা যখনই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন, তখন পুরো প্রশাসনই বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয় এমন মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। নবীনগর পৌরসভার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সরকারি বেতন-বৈতনিক সুবিধা ভোগ করেও দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সেবা নিশ্চিত করতে এই অনিয়মের দ্রুত তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তা বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দফতর শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পৌরসভায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খান কে একাধিক বার ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো: মাহামুদুর রহমান বলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খান ছুটিতে আছেন। সরকারি বিধি বিধান অনুযায়ী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারির নিয়োমিত অফিস করা দরকার।এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।