রিপোর্টার , সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ||
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের- তৃণমূলের কংগ্রেসের আর ডিজে বাজানো হলো না। আজ ৪ঠা মে সোমবার, সকাল থেকেই বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ভোটের গণনা, বিভিন্ন দলের কর্মীরা ভোট গণনার সামনে অপেক্ষায়। কে জিতবে আর কে হারবে, এই নিয়ে চলছে কানা ঘুষো আলোচনা। তাহার মধ্যেই কিছু কিছু জায়গায় গন্ডগোলের সৃষ্টি। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে। সকালের দিকে তৃণমূল কর্মীরা গণনা কেন্দ্রের সামনে থাকলেও, বেলা যতো বাড়ছে বিজেপি প্রার্থীরা যত এগিয়ে, তৃণমূল কর্মীদের আর দেখা পাওয়া যায় না। বেলা বারোটা বাজার সাথে সাথে একের পর এক বিজয় উল্লাসে মেতে উঠেন বিজেপি কর্মীরা, এবং আবির খেলায় মেতে উঠেন। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে, পরিষ্কার চিত্র ফুটে উঠে বাংলায় পরিবর্তন আসছে অর্থাৎ বিজেপি সরকার আসছে, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকে হারিয়ে বিজেপি একের পর এক জয়ী হয়ে চলেছেন। জেলা থেকে শহর কোথাও বাদ নেই বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হতে। সন্ধ্যের মধ্যে ২০৭টি আসনে বিজেপি জয়ী হলেও আরো কিছু আসন গণনা হতে বাকি ছিল। রাত্রি সাড়ে নটা দশটা নাগাদ বিজেপির আসন আরো বেড়ে যায়, শুধু তাই নয় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ১৫ হাজারের উপর ভোটে হেরে গিয়েছেন, বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, হেরে গিয়েছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী খুব কাছের এবং ঘনিষ্ঠ, অরূপ বিশ্বাস, দেবাশীষ কুমার, ব্রাত্য বসু, সুজিত বোস, ইন্দ্রনীল সেন, রত্না চ্যাটার্জি, সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, শ্রেয়া পান্ডে, লাভলী মিত্র সহ বহু তৃণমূল প্রার্থী, ২০২৬-এ সত্যিকারের পরিবর্তন এনে দিয়েছে জনগণ, ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়তে, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এবং তারা বারবার বলেছেন 40 দিনের মাথায় আমরা যা যা বলেছি সেটাই করবো। কিছু জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস জিতলেও, ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি যে হচ্ছে সেটা আজ জনগণের রায় বুঝিয়ে দিয়েছেন। একদিকে যখন ভোট গণনা শুরু এবং বিজেপির জয় এগিয়ে চলেছে তাহার সাথে সাথে, নবান্নের বিভিন্ন করিডোর কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাহাতে কেউ নবান্ন থেকে কোন নথি বের করে নিয়ে যেতে না পারে। শুধু তাই নয় নবান্ন থেকে যারা বেরিয়ে আসছেন তাদের সমস্ত কিছু চেক করে তবেই ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই জয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন এ জয় জনগণের জয়, বিজয় নরেন্দ্র মোদির জয়, জয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জয়, তবে একটা কথা বলব আমি যে নন্দীগ্রাম থেকে এবং ভবানীপুর থেকে জয়ী হয়েছি, আমাকে ভোট দিয়েছে শিখ জৈন হিন্দু, মুসলিমরা একটি ভোটও দেয়নি, মুসলিমরা ভোট দিয়েছে হিজাব পরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে, যিনি জোর গলায় বলেছিলেন আমরা দুশোর বেশি আসোনে জয়ী হবো, কিন্তু জনগণ তার উল্টোটা করে দিয়েছেন। বাংলার পরিবর্তন আনতে নারীদের সুরক্ষা দিতে। তাই জনগণ ঘাসফুল উড়ে পদ্মফুলকে আনলেন। জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ, এবং বিজেপি কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ যারা দিনরাত পরিশ্রম করে এই পরিবর্তন এর লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন। এবারে ভোট সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে দিয়েছে শান্তিতে দিয়েছে। সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছে। যেখানে কোথাও ফাটাফাটি রক্তারক্তি হয়নি। এর জন্য নির্বাচন কমিশন কেউ আমরা অশেষ ধন্যবাদ জানাই সুস্থ নির্বাচন করার জন্য।