(নিজস্ব প্রতিবেদক,) ||
জৈন্তাপুরে প্রভাবশালী মহলের মদদে স্কুলে তালা নিশ্চুপ প্রশাসন।(নিজস্ব প্রতিবেদক,) সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় একটি ভাড়া করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত জৈন্তাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। জায়গার মালিক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে বারবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।উপজেলার ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এশিয়ান হাই রোডের পাশেই মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। সূত্রমতে, বিদ্যালয়ের জায়গার মালিক মাওলানা হাফিজ আবুল কাশেম (যিনি বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেটের ইমাম ও খতিব হিসেবে কর্মরত) এর সাথে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ২০২৮ সাল পর্যন্ত একটি আইনগত চুক্তি বলবৎ ছিল। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগেই তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, জায়গা মালিক মাওলানা হাফিজ আবুল কাশেম স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এই দুঃসাহস দেখাচ্ছেন। এর আগেও তিনি দুইবার একইভাবে তালা বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছিলেন।যায়গার মালিক মাওলানা হাফিজ আবুল কাশেম এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদ হাসান জানান:- অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন, আমরা একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে এই জায়গাটি ভাড়া নিয়ে স্কুল পরিচালনা করছি। চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও মালিক পক্ষ ক্ষমতার দাপটে বারবার তালা লাগিয়ে দিচ্ছে। আজ যখন ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে থাকার কথা, তখন তারা বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদছে। শিক্ষার আলো যেখানে ছড়ানোর কথা, সেখানে এমন কর্মকাণ্ড দেখে আমরা হতাশ। ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের কাছে এর কী জবাব চাইবে?এ নিয়ে ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব ফখরুল ইসলাম জানান, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। মূলত উভয় পক্ষের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে কিছু ঝামেলা তৈরি হয়েছে, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটছে এই তালা দেওয়ার ঘটনায়। তবে শিক্ষার মতো পবিত্র জায়গায় এভাবে তালা দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।ঘটনার বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা কোনো পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি,স্হানীয়রা আরও জানান:- এশিয়ান হাইওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এই স্কুলটি এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার প্রধান ভরসা। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে স্কুলের গেটে তালা দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা দ্রুত জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।যদি দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।