সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ||
ছাতকে ডাকাতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন আটক ২সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ডাবর-জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি লুণ্ঠিত অর্থ ও ভয়ংকর দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।গত বুধবার (৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও এলাকার দারাখাই কুন্দানালা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। জগন্নাথপুর উপজেলার হাবিব ভ্যারাইটিজ স্টোর নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা পিকআপ ভ্যানে করে ফিরছিলেন। এসময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল সড়কের ওপর ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটির গতিরোধ করে।ডাকাতরা অত্যন্ত সহিংসভাবে পিকআপের সামনের ও পাশের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং গাড়িতে থাকা কর্মচারী স্বপন দাস, চালক স্বদেব দাস ও প্রান্ত দাসকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।ডাকাতির খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তদন্তে নামে ছাতক থানা পুলিশ। দোকান মালিক মোঃ মতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই শেখ মোঃ মিরাজ আহম্মেদকে।সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাতদের অবস্থান শনাক্ত করার পর শুক্রবার (৮ মে) রাত ১টা ২০ মিনিটে ভাতগাঁও ইউনিয়নের ভমভমি বাজার এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ১. মোঃ আজির উদ্দিন (৩৩) পিতা- অজ্ঞাত (স্থানীয় বাসিন্দা) ২. মোঃ হোসাইন আহম্মদ (২২), পিতা- অজ্ঞাত (স্থানীয় বাসিন্দা)।গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইশাকপুর এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেই তথ্যানুযায়ী গভীর রাতে সেখানে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে, একটি ২৪ ইঞ্চি লম্বা কাঠের হাতলযুক্ত রামদা এবং একটি ২৩.৬ ইঞ্চি লম্বা ধারালো তলোয়ার।ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে নগদ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। ডাকাতির সময় পরিচয় গোপন করতে ব্যবহৃত একটি বিশেষ লাল-কালো রঙের মুখোশযুক্ত হুডি জ্যাকেট।ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ডাকাতির খবর পাওয়ার পর থেকেই আমাদের টিম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করে। মাত্র এক দিনের মধ্যেই আমরা মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এটি অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তা। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দ্রুততম সময়ে পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।