মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: ||
গাইবান্ধায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী পালিতমোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক আবহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি, গাইবান্ধার উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।অনুষ্ঠানে জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশ্বকবির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে আলোচনা সভায় বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমাত্রিক সাহিত্যকর্ম, দর্শন, মানবতাবাদ ও বাঙালির চেতনায় তাঁর গভীর প্রভাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সৃষ্টি কেবল বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বসভায়ও বাঙালি সংস্কৃতিকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, গান, কবিতা, নাটক ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে সত্য, সুন্দর ও মানবিকতার পথে অনুপ্রাণিত করেছে। বর্তমান সমাজে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশে রবীন্দ্রচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারা ও দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। কবিগুরুর গান ও কবিতার সুরে-ছন্দে পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন গভীর আগ্রহ ও আন্তরিকতায়।অনুষ্ঠানে বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ ও সাহিত্যচর্চাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সার্বিকভাবে আয়োজনটি গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক প্রাণবন্ত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এমন আয়োজন জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।