মনিরুল ইসলাম , সম্পাদক ও প্রকাশক ||
পঞ্চগড়ে দলীয় প্রভাবে মিথ্যা মামলার অভিযোগবোদা (পঞ্চগড়), পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় একটি জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রভাবে সাত জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। সাকোয়া ইউনিয়নের হারাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা নিতিশ চন্দ্র বর্মন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলাটি করেন। তবে বিবাদীপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, হত্যাচেষ্টা ও মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি; শুধু হয়রানির উদ্দেশে সাজানো মামলা করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বোদা উপজেলার এসএ ৫১৪ ও ৫১৫ নং দাগের জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ নিয়ে বাদী নিতিশ চন্দ্র বর্মনের সঙ্গে সাত আসামির সংঘর্ষের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয় (ধারা ১৪৩/৪৪০/৪৪৪/৩২৩/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)। তিনি ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৬১৬ নং দলিলমূলে ওই ২৪ শতক জমি ক্রয় করেন। মামলার বিবাদীপক্ষ জানান, বাদীর জমি বৈধ ক্রয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এক বিবাদী বলেন, “বাদীপক্ষের সঙ্গে আমাদের কোনো ঝামেলা নেই। জমিটির জন্য আগে আমাদের একজন বায়না দিয়েছিলো, কিন্তু বাদী পরে তা রেজিস্ট্রি করে নেন। তারপর থেকে আমরা তাদের কথাই বলিনি।” তাদের অভিযোগ, ওই জমির চারপাশে বিবাদীদের জমি থাকায় বাদী ‘বদলি’ হিসেবে নিজের পছন্দমতো অন্য জায়গায় জমি পাওয়ার জন্য দলীয় প্রভাবে এই মিথ্যা মামলা করেছেন। “তিনি বৈধভাবে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার পরও জমিটি পতিত রেখে শুধু হয়রানি করার জন্য মামলা করেছেন। স্থানীয় মজিবরের ছেলে জিয়াউর রহমান, খাদেমুল ইসলামসহ কয়েকশত মানুষ প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে বলেন, “আমরা মিথ্যা কথা বলব না। তারা সাজানো-গোছানো একটা মামলা করেছে শুধু হয়রানি করার জন্য। হুমকি-ধামকি বা মারামারির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।” বাদী নিতিশ চন্দ্র বর্মনের অভিযোগ, আসামিরা সশস্ত্র অবস্থায় জমিতে প্রবেশ করে ধানের চারা নষ্ট করে এবং তাকে হত্যার হুমকি দেয়। তবে বিবাদীপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। মামলাটি বোদা আমলী আদালত-৩ এ বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রাথমিক বলে বিবেচিত হবে। এ প্রতিবেদনে শুধু উভয় পক্ষের অভিযোগ ও দাবির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।