শরীফ আহমদ চৌধুরী ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ||
ওসমানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল-যন্ত্রপাতি সংকট ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবাশরীফ আহমদ চৌধুরী ওসমানীনগর প্রতিনিধি: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও জনবল, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তীব্র সংকটে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণ শেষ হলেও অধিকাংশ বিভাগ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ফলে সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। এতে হাসপাতালের সেবার মানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্যাথলজি পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।নতুন বহুতল ভবনের অনেক কক্ষ এখনো খালি পড়ে রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালেই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা সিলেট নগরীতে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও সময়ের অপচয়।এদিকে উপজেলার গোয়ালাবাজারে (নিকার) পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় অনুমোদনের প্রায় তিন বছর পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। স্বাস্থ্যখাতের এমন অচলাবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকার হাসপাতাল উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছেন না। দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং হাসপাতালের সব বিভাগ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল ও সরঞ্জাম সংকট দূর করা হবে।