রাজশাহী প্রতিনিধি : ||
অভিজাত এলাকায় বাড়ি, নামি গাড়ি; কর্মচারী নেতার সম্পদের পাহাড়ে তোলপাড়রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে দুর্নীতির পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবের বিরুদ্ধে। নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। সাধারণ একজন ‘রেকর্ড সাপ্লাইয়ার’ হয়েও তার এই ‘আলাদিনের চেরাগ’ প্রাপ্তি নিয়ে বোর্ডের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৬৬ জন অস্থায়ী কর্মচারীকে স্থায়ী করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই স্থায়ী করার নেপথ্যে মাহবুব বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনে জড়িয়েছেন। নিজের আত্মীয়স্বজন ছাড়াও বিপুল অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিদের স্থায়ী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগী মহলে গুঞ্জন রয়েছে, এই নিয়োগ বাণিজ্য থেকে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি নিজের মেয়েজামাতাসহ ঘনিষ্ঠ অনেককেই তিনি নিয়োগ দিয়েছেন।বোর্ডের একজন সাধারণ রেকর্ড সাপ্লাইয়ার হিসেবে কর্মরত থাকলেও মাহবুবের জীবনযাত্রায় দেখা গেছে রাজকীয় বিলাসিতা। রাজশাহীর অভিজাত এলাকায় বহুতল ভবন, দামি গাড়ি এবং বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পাহাড় গড়েছেন তিনি। একজন সরকারি কর্মচারীর সীমিত আয়ে কীভাবে এত অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।মাহবুবের দুর্নীতির ফিরিস্তি অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্তের গতি থমকে যায়। এবার ৬৬ জনের নিয়োগ স্থায়ী করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সেই পুরনো দুর্নীতির ফাইল আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের পদের প্রভাব খাটিয়ে মাহবুব বোর্ডে নিজের একটি ‘স্বর্গরাজ্য’ কায়েম করেছেন। তাঁর মতের বিরুদ্ধে কেউ গেলে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে তিনি দিনের পর দিন এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বোর্ডের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মাহবুবের অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করে তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।