স্টাফ রিপোর্টার খুলনা: ||
পাইকগাছায় থানা পুলিশের রহস্যজনক নিরবতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের পুনর্বাসন বাড়ছে। ক্ষোভে ফুঁসছে জনগণ।স্টাফ রিপোর্টার খুলনা: খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার দৃশ্যমান তৎপরতা কম থাকায় পূর্বে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।৫ই আগস্ট পরবর্তী সারাদেশের মতো পাইকগাছা উপজেলায়ও ২৪ এর ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্যাতনকারী আওয়ামীলীগের পদধারী চিহ্নিত প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের ভিতরে স্বস্তি ফিরে এসেছিলো। কিন্তু বর্তমান সময়ে পাইকগাছা থানা পুলিশের রহস্যজনক নিরবতায় আওয়ামীলীগের পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ এলাকায় ফিরে আবারো সক্রীয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।অনেকেই আবার এলাকায় ফিরে এখনো তাদের আওয়ামী রাজনীতির কার্যক্রম চালু রেখে ফেসবুকে আওয়ামী লীগের সমর্থনে পোস্টও করছেন। কেউ কেউ এলাকায় ফিরে জড়িয়ে পড়েছে পুরাতন ব্যবসা মাদকে।এলাকায় ফিরে এসে আওয়ামীলীগের পদধারী নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ ক্ষমতা ফিরে পেতে বিভিন্ন মহলে তদবি'র ও দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ৭নং গদাইপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম ক্ষমতা ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনও করেছেন। ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান মান্নান গাজী এলাকায় ফিরে আসতে চাইলে স্থানীয় বিএনপি এবং জনগণের বিক্ষোভ মিছিলে চাপে পড়ে এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি। ৯নংচাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আমেরিকান প্রবাসী শাহজাদা আবু ইলিয়াস গত ৯-ই মে নিজ ইউনিয়নে প্রবেশ করেছেন। শাহজাদা আবু ইলিয়াস চাঁদখালী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সদস্য সচিব ছিলেন। ৫ই আগস্টের পর তিনিও দেশ ছেড়ে আমেরিকা পালিয়ে গিয়েছিলেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা তাকে না পেয়ে তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এলাকায় প্রবেশ করে তিনি পালিয়ে থাকা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের একত্রিত করে মোটরসাইকেল শোডাউন,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং কবর জিয়ারত করেছেন। শাহজাদা চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্য শেখ হেলাল ও শেখ সোহেল এর অত্যান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি এখনো ইউনিয়ন কৃষকলীগের সদস্য সচিব পদে বহাল আছেন। ২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় আন্দোলন দমন করতে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মোড়ল এবং পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে শাহজাদা আবু ইলিয়াস চাঁদখালী বাজারে বক্তব্য দিয়েছিলেন- "চাঁদখালী ইউনিয়নের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাটি, চাঁদখালীর মাটিতে জামাত-বিএনপির কোনো ঠাঁই হবে না।"কট্টর আওয়ামী পন্থী এ নেতা এলাকায় প্রবেশ করে আধিপত্য বিস্তার করায় স্থানীয় জনগণ এবং তৃণমূল বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছে।স্থানীয়দের অভিযোগ শাহজাদা চেয়ারম্যান পাইকগাছা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই এলাকায় প্রবেশ করেছেন। তা না হলে জুলাই ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের উপর নির্যাতনকারী চিহ্নিত প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা প্রকাশ্যে আসলেও পুলিশ কেনো নিরবতা পালন করছে?এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।