রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ||
কলকাতার কুমারটুলি থেকে ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা পাড়ি দেবে জার্মান ও ইতালি। আজ ১১ ই মে মঙ্গলবার, কলকাতার কুমারটুলি পাড়ায় মৃত শিল্পীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। একদিকে চোখে পড়ল দুর্গা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা অন্যদিকে ফলহারিণী কালীপুজোর কালী প্রতিমা তৈরীতেও ব্যস্ততা। কোথাও চলছে প্রতিমার খড়বাঁধার কাজ, কোথাও বা প্রতিমার গায়ে মাটি দেওয়ার কাজ, আবার কোথাও প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ। কুমারটুলির নামকরা মৃত শিল্পী মোহন বাশিঁ রুদ্র পালের প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ। রয়েছে বাকি প্রতিমার গায়ে রং ও সাজ সজ্জা। অন্যদিকে কুমারটুলির মৃৎশিল্পী বাবলু পালের ফাইবারের দুর্গা প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, চলছে প্রতিমার গায়ে রঙের কাজ, কারণ আর দুদিন বাদেই পাড়ি দেবে কুমারটুলি থেকে জার্মানি ও ইতালি। তাই মৃৎশিল্পীর ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো, দুর্গা পুজো দেরি থাকলেও, ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা কিন্তু পাড়ি দিচ্ছে অনেক আগেই। এবারে মৃৎশিল্পীরা জানালেন, পুজো দেরি থাকলেও অনেক আগে থেকেই প্রতিমার বায়না দিয়ে চলে গেছেন। তাহার উপর ঝড় বৃষ্টির কারণে আমরা আগে থেকেই প্রতিমার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। তবে আমাদের ধারণা এবারে প্রতিমার অর্ডার অন্যান্য বছরের থেকে বেশি হবে বলে মনে হয়। যে প্রতিমাগুলি অর্ডার হয়েছে সেগুলি দুধ-দূরান্ত থেকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এসে অর্ডার দিয়েছেন। আরে অনেক প্রতিমায় বাইরের দেশ থেকে অর্ডার দিচ্ছেন, এবং প্রতিমার রূপ একটু ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন রূপের অর্ডার হয়েছে, যাহারা এক চালা বা সাবেকি আনার প্রতিমা অর্ডার দেন তাহারা তো আছেনি। এবারে ছোট দুর্গা প্রতিমারও অর্ডার ও তৈরি বেড়েছে। বহু পরিবারে নতুন করে দুর্গা পুজো শুরু করছেন, এই সকল পরিবার ও একে একে আসতে শুরু করেছেন অর্ডার দেওয়ার জন্য। এবারে দুর্গা প্রতিমা মিনিমাম ২৫ হাজার থেকে শুরু করে ৫০০০০, ৭৫০০০, এক লাখ, এক লাখ কুড়ি ও তার অধিক দামের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। একদিকে যেমন প্রতিমার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি, অন্যদিকে প্রতিমার সাজের গয়নার দামও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আর উপর লেবারদের মাইনে তো আছেই। তবে আমরা আনন্দিত, আস্তে আস্তে আমাদের কলকাতার কুমারটুলি থেকে ঠাকুর অনেক বেশি পাড়ি দিচ্ছে ভিনদেশে। আগেরবারও বেশ কয়েকটি দুর্গা প্রতিমা বাইরের দেশে গিয়েছিল।