মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ||
গাইবান্ধায় ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান” প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনে দিবস উদযাপনমোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:- গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬। “অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (১৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট সংগঠন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল সচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড, যা অটিজম বিষয়ে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার বার্তা দেয়।দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ, জাতীয় উন্নয়ন প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন এবং স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে। শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল রাজিব, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ঈমাম হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসিরুদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সমাজকর্মী ও সুধীজন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের একটি ভিন্ন বিকাশধারা। তাদের প্রতি সহানুভূতি, ভালোবাসা ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে তারাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করার মাধ্যমে অটিজম শিশুদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা তার বক্তব্যে বলেন, “অটিজম শিশুদের অবহেলা নয়, বরং বিশেষ যত্ন ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। অন্য শিশুদের মতো তাদেরও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক মর্যাদার অধিকার রয়েছে। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।”এদিকে দিবসটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার পূর্বে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৮ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ সময় হুইল চেয়ার, অক্সিলারী ক্রাচ ও স্মার্ট সাদাছড়ি তুলে দেওয়া হয় উপকারভোগীদের হাতে। সহায়ক উপকরণ পেয়ে উপকারভোগী ও তাদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন।দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে অটিজম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।