পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ||
পটুয়াখালীতে রামকৃষ্ণ দেবের জন্মোৎসব সম্পন্ন: সেবা সংঘকে জমি দেওয়ার আশ্বাস পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসকের পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক জন্মোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবের সমাপনী দিনে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেবা সংঘের স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য আগামী ৬ মাসের মধ্যে জমি বরাদ্দের জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। পটুয়াখালী শহরের নতুন বাজারস্থ শ্রী শ্রী মদনমোহন জিউর আখড়াবাড়িতে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেবা সংঘের উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (১৫ মে) গভীর রাতে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই আধ্যাত্মিক আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে। রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেবা সংঘ পটুয়াখালীর সভাপতি (অব.) সহকারী অধ্যাপক শ্রী অশোক কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র ও বি.এন.এস.বি চক্ষু হাসপাতালের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ পিনু এবং বাগেরহাট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী গুরুসেবানন্দজী মহারাজ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান, স্বামী বিজিতাত্মানন্দজী মহারাজ, বিভিন্ন বয়সের ভক্ত-অনুরাগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।উৎসবের প্রথম দিনে বিশেষ পূজা, অঞ্জলি প্রদান এবং ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ভক্তিমূলক সংগীত অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে সমবেত প্রার্থনা এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেব, মা সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও দর্শনের ওপর বিশেষ আলোচনা করা হয়। এ সময় স্বামী বিজিতাত্মানন্দজী মহারাজ ভক্তি ও মানবকল্যাণকে রামকৃষ্ণ দেবের মূল শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক পৌর মেয়র মোস্তাক আহমেদ পিনু বলেন, "রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের দর্শন তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করে।" তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার ভেতর জেলা পরিষদের অব্যবহৃত জায়গায় সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য জমি বরাদ্দের জোরালো দাবি জানান।তিনি আরও বলেন, "আপনারা জানেন এদেশে প্রতি নির্বাচনের পর একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি হয়, কিন্তু এবার তা হয়নি। কারণ এদেশে সঠিক নেতৃত্ব আসছে যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখে। আপনারা সবাই তারেক রহমানের জন্য আশীর্বাদ করবেন। আমাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না, আমরা সবাই মিলেমিশে থাকব।"অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, "শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের জীবন ও আদর্শ মানবতার অনন্য দিশারি। এ ধরনের আয়োজন সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে।"আয়োজকদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, "সংগঠনের সভাপতি অশোক কুমার দাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে অন্তত ছয় মাসের মধ্যে আমি একটি জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করব।" জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।