মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :- ||
গাইবান্ধায় শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা-২০২৬মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :- গাইবান্ধায় জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী “ভূমি সেবা মেলা-২০২৬”। এ উপলক্ষে রোববার (১৭ মে) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভূমি সেবাকে আরও সহজ, প্রযুক্তিনির্ভর ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নানা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লোকমান হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবুসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় ঢাকার তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবন থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ভার্চুয়ালি ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে এ মেলার কার্যক্রম শুরু হবে, যা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এ মেলায় সাধারণ মানুষকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সরাসরি প্রদান করা হবে। বিশেষ করে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারি আবেদন ও নিষ্পত্তি, খতিয়ান উত্তোলন, পর্চা যাচাই, অনলাইন আবেদন গ্রহণ, ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়াও সেবা প্রত্যাশীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে কীভাবে সহজে ভূমি সেবা গ্রহণ করবেন সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলার প্রথম দিন ৩৬ জন ভূমিহীন পরিবারের মাঝে সরকারি ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হবে। এ উদ্যোগকে সরকারের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ভূমিহীন মানুষের মাঝে জমি প্রদান তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। আগে যেখানে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হতো, এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খুব সহজেই এসব সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে হয়রানি কমার পাশাপাশি সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।তিনি জানান, এখন দেশের যেকোনো স্থান থেকে নাগরিকরা পোর্টালে প্রবেশ করে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান সংগ্রহ, ই-নামজারি আবেদনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ভূমি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এতে জনগণের মধ্যে ডিজিটাল সেবা গ্রহণের আগ্রহও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।land.gov.bd সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভূমি সেবা মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভূমি আইন, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি কর বিষয়ে সচেতন করে তোলা হবে। পাশাপাশি অনলাইনে ভূমি সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ বুথ স্থাপন করা হবে। সেবা গ্রহণে আগত মানুষ যাতে সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এবারের ভূমি সেবা মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।”সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভূমি সেবা মেলা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং এটি জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও ডিজিটাল ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেগবান হবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।